নুসরাতের জন্য মসজিদে-কবরস্থানে অঝোরে কাঁদলেন বাবা-ভাই

  সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাতের জন্য মসজিদে-কবরস্থানে অঝোরে কাঁদলেন বাবা-ভাই
নুসরাতের জন্য মসজিদে-কবরস্থানে অঝোরে কাঁদলেন বাবা-ভাই

প্রিয় কন্যা ও বোনকে হারিয়ে দুঃসহ বেদনা নিয়ে পবিত্র শবেবরাতে স্থানীয় মসজিদে ও কবরস্থানে নুসরাতের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ডুকরে ডুকরে অঝোরে কাঁদলেন মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের প্রিয় বাবা ও দুই ভাই।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমার বোন সুরেলা কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করতে পারত, শবেবরাতে নামাজের পাশাপাশি পুরো রাত কোরআন তিলাওয়াত করত। হাদিস ও ইসলামি সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগিতে রাতটা কাটাত। সেই বোন এ শবেবরাতে নেই, নির্মমতার শিকার হয়ে শায়িত হয়ে আছে কবরস্থানে।

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তারই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার দোসর ও তার সহপাঠীরা।

নুসরাতের ভাই নোমান আরও বলেন, আমাদের পুরো পরিবারের মধ্যমণি ছিল আমাদের বোনটি, যেন সবার নয়নের মণি। শবেবরাতের রাতে বোন হালুয়া-রুটি ও সুস্বাদু খাবার রান্না করত। সবাইকে নিয়ে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে রাতটা পার করত। কিন্তু এ বছর শবেবরাতের রাতে আমাদের বোনটি আর বেঁচে নেই, খুনিরা তাকে বাঁচতে দেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা এ ভাগ্য রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বোনের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেছি। বোন যেন জান্নাতের বাসিন্দা হতে পারে সে জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছি। এর পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে এ নির্মম হত্যার বিচারও চেয়েছি।

নোমান বলেন, আমরা সরকারের কাছেও আমাদের বোনের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে আর কোনো ভাই বোন হারিয়ে আর্তনাদ করতে না হয়। বোনের শূন্যতার ডুকরে ডুকরে কাঁদতে না হয়।

গ্রামের স্থানীয় মসজিদে, কবরস্থানে ও বাড়িতে এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে রাত কাটান নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা।

নুসরাতের দাদাও ৫৯ বছর ধরে ইমামতি করে জীবন কাটিয়েছেন। বয়োবৃদ্ধ এই মাওলানা মোশারফ হোসেনও রাত জেগে এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে সময় কাটিয়েছেন। প্রিয় নাতনির জন্য দোয়া করেছেন প্রাণভরে।

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকালে তার জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ১০ এপ্রিল থেকে মামলাটির দায়িত্ব পায় পিবিআই। সেই থেকেই গ্রেফতার হতে থাকে আসামিরা। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ২২ জন আসামি। তাদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৮ জন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×