ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেল!

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  পটুয়াখালী (দ.) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে অবরুদ্ধ চিকিৎসককে নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছে আইন-শৃংখলাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বজনরা  অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরে ভুক্তভোগী ‍চিকিৎসককে ডা.  এএফএম আতিকুর রহমানকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে নিয়ে যান।  

সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির ভাইয়ের ছেলে আল আমিন ও পরিবারের স্বজনের অভিযোগ, সোমবার সকালে আনসার ব্যাটালিয়নে চালক আব্দুল ছাত্তারের (৫২) বুকে ব্যাথা অনুভব করলে তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।  

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিসিন বিভাগের পেইং বেডে প্রেরণ করেন। এর কিছুক্ষন পরে তার বুকের ব্যথা বেশি অনুভব করলে দায়িত্বরত নার্স শুভা রানা ডা. আতিকুর রহমানের ফোনে একাধিকবার কল দেন। কিন্তু ডাক্তার আতিক ফোন রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে আব্দুল ছাত্তার বেলা ১১টার দিকে মারা যান।  এ সময় ডাক্তার এসে হাজির হন। পরে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে অবহিত করে।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসলে ওই চিকিৎসক পুলিশের প্রহরায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এ প্রসঙ্গে ডা. আতিকুর রহমান বলেন, আজ আমার দায়িত্ব ছিল না।  অন্য ডাক্তার ছিল।  ফোন সাইলেন্ট করা ছিল তাই দেখতে পাইনি। এখানে এ ঘটনার জন্য আমি দায়ী নই।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কেউই তো ভুলের উর্ধ্বে নয়।  যদি চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা থাকেনতবে তার বিচারেরও ব্যবস্থা আছে।  আমাদের বিএমডিসি আছে, দেশে আইন-আদালত আছে।  তাই  একজন চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করা, তার ওপর আক্রমণ করা, তাকে প্রেশার দেয়া উচিত নয়।

পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট।  তিন ভাগের দুই ভাগ পদই খালি।  যার কারণে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ওপর খুব চাপ পড়ে। আর চিকিৎসকরাও তো মানুষ।  তাদের সরকারি ছুটির দিনও ডিউটি করতে হয়। এজন্য ওভারটাইমও তারা পান না।  এতো কিছুর পরও যদি একজন চিকিৎসক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন তাহলে দুর্ভাগ্যজনক।