আদালতে যুবক হত্যার বর্ণনা দিল ফারজানা

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে কলেজছাত্র উজ্জ্বল মিয়া খুনের ঘটনার রহস্য সম্পর্কে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তার প্রেমিকা ফারজানা আক্তার (১৭)।

মঙ্গলবার বিকালে সে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেয়।

আদালতে ফারজানা ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছে। পরে আদালতের নির্দেশে ফারজানা আক্তার ও তার বাবা মঞ্জু মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাখাই থানার ওসি মো. এমরান হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার পর বিচারক প্রেমিককে হত্যার দায়ে গ্রেফতার হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ছাত্রী ফারজানা আক্তারকে আদালতে নেয়া হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে উল্লিখিত আদালতের বিচারকের খাস কামরায় নেয়া হয়।

ফারজানা বিচারকের কাছে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। সে আদালতকে জানায়, মাধবপুর সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজের ছাত্র লাখাই উপজেলার মুড়াকরি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়ার (২২) সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফারজানার মা-বাবা ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত উজ্জ্বল।

কিন্তু ফারজানকে রেখেও আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে একই রকমভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে উজ্জ্বল। সে খবর জানতো না ফারজানা। ২০ ফেব্রুয়ারিও তারা ফারজানার বাড়িতে অবস্থান করে। ওই রাতে তার অন্য প্রেমিকা বারবার তাকে মোবাইলে ফোন করছিল।

কিন্তু ফোন না রিসিভ করায় মেয়েটি একপর্যায়ে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। তা দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ফারজানা। সে তখন আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে। পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত পাল্টায়। নিজে কেন মরবে? বরং প্রেমিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

আর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতেই ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে প্রেমিক উজ্জ্বলের মাথায় প্রথমে আঘাত করে। তাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ থাকে তার মনে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। এরপর নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে লাশ সেখানে পুঁতে ফেলে।

সকালে সে ঢাকায় গিয়ে মা বাবার কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানায়। খবর পেয়ে মা-বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ছুটে আসেন। রাতে তার বাবা মঞ্জু মিয়া লাশ বস্তাবন্দি করে মেন্দি হাওরের একটি বিলে নিয়ে ফেলে আসেন।

এদিকে উজ্জ্বলের কোনো খোঁজ না পেয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি তার বাবা শাহ আলম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর প্রেক্ষিতে এলাকার বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

তার তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে রোববার ফারজানা ও তার বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে ফারজানা ঘটনা স্বীকার করে। পরে মঙ্গলবার বিকালে তার বাবা মঞ্জু মিয়ার দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মেন্দি হাওরের একটি বিল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উজ্জ্বল মিয়ার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।