নবীনগরে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে চোখ হারাতে বসেছে স্কুলছাত্র!

  নবীনগর (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিফাত
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিফাত

ক্লাসে পড়া না পারার অজুহাতে এক ছাত্রকে পিটিয়েছেন শিক্ষক। এতে ওই ছাত্রের চোখ নষ্ট হতে বসেছে। সারা জীবনের জন্য এক চোখে আলো দেখা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিফাত।

গত ১০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট অমর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকের বেতের আঘাতে ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির রিফাত নামে এক শিক্ষার্থীর বাম চোখ নষ্ট হওয়ার পথে।

পরিবারের অভিযোগ এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আহত শিক্ষার্থীর পরিবার।

জানা গেছে, উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের সিজিল মিয়ার ছেলে মো. রিফাত মিয়া বিদ্যাকুট অমর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। গত ১০ এপ্রিল উক্ত বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. জাবেদের দ্বিতীয় ঘণ্টার সময় রিফাত পড়া না পারার কারণে শাসন করার নামে তাকে বেত্রাঘাত করেন ওই শিক্ষক। এ সময় বেত গিয়ে রিফাতের চোখে লাগে।

তার সহপাঠীরা প্রথমে তার চোখে পানি দেয়, তাতেও যন্ত্রণা না কমায় তার এক সহপাঠীর সহযোগিতা নিয়ে স্থানীয় ডাক্তার মাহবুবের কাছে গেলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রিফাতের বাবা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে যাওয়ার পর সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তার চোখ অপারেশন না করা পর্যন্ত কিছু বলতে পারবেন না। চোখ অপারেশন করলে চোখ ভালো না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আহত রিফাত জানান, ক্লাসে ইংরেজি পড়া না পারার কারণে তাকে জাবেদ স্যার বেত্রাঘাত করার সময় বেত ভেঙ্গে গিয়ে চোখে লেগেছে।

ওই বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে ছুটে গিয়েছি, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওই শিক্ষার্থীর সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছি, চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি। খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. জাবেদকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমি সোমবার শুনেছি। এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ছাত্র রিফাতের বাবা বলেন, চোখ অপারেশন করাতে যে টাকার প্রয়োজন আমার কাছে সেই টাকা নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ রিফাতের চিকিৎসায় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে না। তাই বাবা হয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে ছেলের অন্ধত্ব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার মন আর সইছে না।

ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×