গ্রাহক না হয়েও বিদ্যুৎ বিল মামলায় এবার নিরীহ কৃষকের হাজতবাস

  ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

গ্রাহক না হয়েও বিদ্যুৎ বিল মামলায় এবার নিরীহ কৃষকের হাজতবাস
হাজতবাস করা কৃষক মো. জালাল উদ্দিন মণ্ডল। ছবি: যুগান্তর

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্রাহক না হয়েও পল্লী বিদ্যুতের মামলায় হাজতবাস করতে হয়েছে মো. জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫০) নামে এক নিরীহ কৃষককে।

তিনি উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের মুসলিম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।

এদিকে হাজতবাসের পর হয়রানির শিকার জালাল উদ্দিনের ভাতিজা রিপন মঙ্গলবার মামলার কপির জন্য ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ অফিসে গেলে তাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

মামলা সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর গ্রাহক কাইছান গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (জালাল)। যার হিসাব নম্বর ৩৫২-৫৩০০। ওই হিসাব নম্বরের বিপরীতে বিভিন্ন জরিমানাসহ পাঁচ হাজার ৫১ টাকা বকেয়া বিলের অভিযোগ দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ভালুকার তৎকালীন এজিএম (প্রশাসন) মো. সেকান্দর আলী বাদী হয়ে বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ সালের ৪০,৩২(১) ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গত ১৮ এপ্রিল রাতে বিরুনীয়া গ্রামের মুসলেম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে নিরীহ কৃষক মো. জালাল উদ্দিন মণ্ডলকে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। তিন দিন বিনা অপরাধে তিনি হাজতে থাকার পর ১ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টায় জামিনে ছাড়া পান।

বিনা অপরাধে হাজতবাস করা জালাল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'আমি পল্লী বিদ্যুতের কোনো গ্রাহক নই। অথচ বিদ্যুতের বকেয়া বিলের মামলায় আমাকে তিন দিন হাজতবাস করতে হয়েছে। জামিনে বের হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আমার ভাতিজা রিপন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর কার্যালয়ে গেলে অফিসের জিএম মামলার কপি দিতে অস্বীকার করেন এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। কোন ধারায়, কে বাদী, কী অপরাধে আমি হাজত খাটলাম কিছুই জানি না। জিএম যদি মামলার কপিটি দিতেন, তাহলে জানতে পারতাম কী কারণে হাজত খাটলাম। বিনা অপরাধে হাজত খাটায় গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছি।'

মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলকারী ভালুকা মডেল থানার এসআই শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানায় আসামির নাম ঠিকানা দেখেই তাকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর এজিএম (অর্থ) তুহিন রহমান জানান, ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে মামলার কপি দিতে জিএম স্যারের নিষেধ থাকায় তা দেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে জিএম প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল সংযোগ না পেয়েও বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মামলায় কারাগারে যেতে হয় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের দিনমজুর আবদুল মতিনকে। পরে ১৯ এপ্রিল জামিনে কারামুক্তি পান তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×