ডিবি পরিচয়ে বাসচালককে হত্যা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৮৭ রুটে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

মাদক উদ্ধারের নামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে বাস থেকে চালককে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৮৭টি রুটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। 

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ৮৭ রুটে (৬৮টি আন্তঃজেলা ও ১৯টি স্থানীয়) এ ধর্মঘট চলবে।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা আলটিমেটাম দিয়েছেন- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে সোমবার রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে দুই দফায় ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছেন চট্টগ্রামের পরিবহন শ্রমিকরা। 

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ৮৭ রুটে (৬৮টি আন্তঃজেলা ও ১৯টি স্থানীয়) চট্টগ্রাম থেকে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনে শ্রমিক ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। 

এ ছাড়া রোববার সকাল ৬টা থেকে পর দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় (চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার) পণ্য ও যাত্রীবাহী উভয় ধরনের পরিবহনে শ্রমিক ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

নগরীর বিআরটিসি মার্কেট এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অফিসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম শাখার যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (চট্টগ্রাম ও সিলেট) সভাপতি মৃণাল চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘শ্যামলী এনআর পরিবহনের একটি বাসের চালক জালাল উদ্দিনকে (৪৩) ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে এই শ্রমিক ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।’

মৃণাল চৌধুরী জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শ্যামলী এনআর পরিবহনের একটি বাস পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় এলে সাদা মাইক্রোবাসে করে আসা একদল লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চালক জালাল উদ্দিনকে হাতকড়া পরিয়ে বাস থেকে নামায়। তাদের হাতে অস্ত্র, হ্যান্ডকাফ ও ওয়্যারলেস ছিল। তারা মাদক বের করে দিতে বলে। 

এর পর দফায় দফায় চালক জালালকে পেটানো হয়। স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য একপর্যায়ে তার চোখে গামছা বেঁধে পানি ঢালা হয়। বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এর পরও মাদক পাওয়া যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক জালালকে বাসে ফেলে রেখে চলে যায় ডিবি পরিচয় দানকারী ব্যক্তিরা।

এর পর শ্যামলী পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিকল্প চালক পাঠিয়ে বাসটি ও এর চালককে চট্টগ্রাম নিয়ে আসেন। আহত চালক জালালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত চালকের বাড়ি দিনাজপুর বলে তিনি জানান।