মাথায় রক্তাক্ত জখম, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা!

  ওসমানীনগর/বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

সিলেট

মাথায় রক্তাক্ত জখম, গলা, কপাল আর পিঠে আঘাতের চিহ্ন। তবুও পুলিশ বলছে, সেটা আত্মহত্যা।

সোমবার ওই রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ছিন্তামইন (হাওরবাড়ির) মৃত ছইফ আলীর পুত্র জিলা মিয়ার (৪২) বাড়িতে।

ওইদিন সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী জিলা মিয়ার সঙ্গে স্ত্রী দুই সন্তানের জননী শেফা বেগমের (৩২) ঝগড়া বাধে। পরে জিলা মিয়ার পক্ষ থেকে দুপুরে শেফা বেগমের পিতার বাড়ি বিশ্বনাথের গড়গাঁও গ্রামে মোবাইল ফোনে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

খবর পেয়ে জিলা মিয়ার বাড়িতে যান শেফা বেগমের বড় বোন রিনা বেগম, বড় ভাই খলিল মিয়াসহ গড়গাঁও গ্রামের অনেক লোকজন।

পাশাপাশি স্বামী জিলা মিয়ার বাড়িতে পুলিশ উপস্থিত হয়ে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহত শেফা বেগমের পিত্রালয়ে লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত শেফা বেগমের বড় বোন রিনা বেগম ও বড় ভাই খলিল মিয়া বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে তারা শেফা বেগমের স্বামীর বাড়িতে যান। এ সময় তারা লাশের মাথায় রক্তাক্ত জখম, কপাল আর পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তখন তারা উপস্থিত হওয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তাদের বোনকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ ও জিলা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে শেফা বেগম বসতঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পুলিশ সেখানে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেনি। পুলিশ লাশ খাটের ওপর রাখা দেখতে পায়। এমতাবস্থায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ।

নিহতের ভাই খলিল আরও বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পুলিশ সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসমানীনগরের সার্কেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত শেফা বেগমের মাথায় অল্প একটি রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। সকালে স্বামী স্ত্রী মারামারি করলে উভয়পক্ষের শরীরে আঘাত প্রাপ্ত হন। তবে শেফা বেগমের মাথার আঘাতের চেয়ে বেশি আঘাত তার স্বামীর শরীরে রয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে সেটা আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তার পরও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে সেটা আত্মহত্যা না হত্যা বোঝা যাবে।

জানতে চাইলে সুরতহাল রিপোর্টকারী ওসমানীনগর থানার এসআই মুমিনুল ইসলাম সেটা আত্মহত্যা দাবি করে যুগান্তরকে বলেন, মাথায় ও কপালে সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেটা মৃত্যুর জন্য পর্যাপ্ত নয়। আর আলামত হিসেবে গলায় ফাঁস দেয়া একটি ওড়না উদ্ধার করেছেন। কিন্তু তার রং জানতে চাইলে তিনি একবার বলেন কালো প্রিন্ট আর একবার বলেন অ্যাশ কালারে প্রিন্ট রয়েছে।

এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শেফা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে কোর্টে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×