চিকিৎসা ছাড়াই মাদ্রাসায় মারা গেল অসুস্থ ছাত্রী

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লেও মাদ্রাসার এক আবাসিক ছাত্রীকে হাসপাতালে না পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সময়মতো হাসপাতালে না নেয়ার কারণে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া আবাসিক ছাত্রী খাদিজা আক্তার বুধবার সকালে মারা যায় বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছে।

আট বছর বয়সী খাদিজা উপজেলা সদরের হালিমা সাদিয়া (রা.) কওমি মহিলা মাদ্রাসার মক্তব প্রথম শ্রেণির আবাসিক ছাত্রী ছিল।

সে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপাড়াতলা গ্রামের আবদুল কাদিরের মেয়ে। মেয়েটির বাবা হোসেনপুর সদরে একটি লেপ-তোশকের দোকানে কাজ করেন। আর শিশুটি হোসেনপুর সদরের জামাইল গ্রামে তার নানা ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত।

শিশুটির নানা ইসমাইল হোসেন জানান, ৫ দিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি নিজে তার নাতি খাদিজাকে মাদ্রাসায় দিয়ে যান। রাতে বাড়ি থেকে খাবারও পাঠানো হয়। পরে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে ভোরবেলায় তার নানাকে মাদ্রাসা থেকে ফোন দেয়া হয়। বাবা সকাল পৌনে ৭টায় মাদ্রাসা গিয়ে তার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রী জানায়, রাতে হঠাৎ বমি করতে থাকে খাদিজা। কিন্তু এভাবে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। পরে ভোরে অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে বিষয়টি তার নানাকে জানানো হয়।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মার্জিয়া আক্তার জানান, ভোরে ফজরের নামাজের সময় তিনি গিয়ে মেয়েটিকে ছটফট করতে দেখেন। এ অবস্থায় তিনি মাদ্রাসা প্রধান মুফতি আবুল ফাতাহকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে মাদ্রাসা প্রধান বিষয়টি তার নানা ইসমাইলকে জানান।

স্বজনরা জানান, এরপর মেয়েটির বাবা ও নানা মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুটিকে বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অথচ হাসপাতাল থেকে মাদ্রাসা ৫ মিনিটের রাস্তা। ইচ্ছে করলে মাদ্রাসা থেকেই শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়া যেত।

শিশুটির বাবা আবদুর কাদির অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যদি অসুস্থ খাদিজাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাতেন তাহলে হয়তো বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হতো না।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা প্রধান মুফতি আবুল ফাতাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাদ্রাসায় থাকি না। তাই বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যেতে দেরি হবে বলে খাদিজার নানাকে বিষয়টি জানানো হয়।

তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এ মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হাবিবুল্লাহসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন। তারা সচেতন থাকলে আরও আগে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো যেতে।

জানা গেছে, এ মাদ্রাসায় বিভিন্ন শ্রেণিতে ১৩০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করে। তাদের মধ্যে ১০০ জন আবাসিক ছাত্রী।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আদনান জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাই তাদের করার কিছু ছিল না। তবে মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ওসি মো. আবুল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা এ ঘটনাটিকে নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তাই এ ঘটনায় কোনো মামলা করেননি। কিন্তু তাদের মেয়েটির ব্যাপারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আন্তরিক ছিল না।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×