বিষের বোতল নিয়ে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে প্রথম স্ত্রীর অনশন!

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

বিষের বোতল নিয়ে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে প্রথম স্ত্রীর অনশন
বিষের বোতল নিয়ে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে প্রথম স্ত্রীর অনশন

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের পানাটি গ্রামে পুলিশ কনস্টেবল মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে বিষের বোতল নিয়ে প্রথম স্ত্রীর দাবি নিয়ে অনশন শুরু করেছে খাদিজা আক্তার।

বুধবার দ্বিতীয় দিনেও স্বামীর গৃহে প্রবেশ করতে না পারায় অনশনে অনড় সেই তরুণী।

অপরদিকে স্বামীকে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামীর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এ ইউনিয়নের বেদাশ্রম গ্রামের শামছুল হকের কন্যা মোছা. সুমা আক্তারকে। তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে অনুমোদন ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার স্বামী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মঙ্গলবার মামলা রুজু করেন তিনি।

পুলিশ সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম ডৌহাখলা বাজারে মনোহারী দোকান দেয়ার সময় ২০১২ সালে খাদিজা আক্তারের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

খাদিজা বলেন, সুসম্পর্কের ৬ বছর পর ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আমরা দুজন নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট করি। সে মাসের ১৫ তারিখে ময়মনসিংহ কাজী অফিসে আমাদের বিবাহ নিবন্ধন হয়। এরপর আমরা ৩ মাস বাসা ভাড়া করে ময়মনসিংহে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবনযাপন করেছি। এরপর আমাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি ছিল কিছুদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসবে। দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখে। এ সুযোগে সে বিয়েও করেছে বলে খবর পাই। এখন ‘হয় স্বামীর ঘর, নইলে মরণ’ এর বাইরে আমার চিন্তা করার কিছু নেই।

খাদিজা পার্শ্ববর্তী রামগোপালপুর ইউনিয়নের দুরুয়া আগপাড়া গ্রামের কাসেম মিয়ার কন্যা।

এ দিকে জাহাঙ্গীর আলমের ভাই সাদ্দাম হোসেন বলেন, গত কোরবানি ঈদের একদিন পরে তার ভাই জাহাঙ্গীরকে বিয়ে করানো হয়েছে। সেই বউ নিয়ে উত্তরা দিনযাপন করছে। মঙ্গলবার বিকালে খাদিজা আক্তার নামে এক নারী এসে বলছেন- জাহাঙ্গীর তাকেও বিয়ে করেছে।

জাহাঙ্গীর আলমের বাবা সামছুল হক বলেন, এগুলো আমার ছেলের চাকরি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। তবে সাংবাদিক আসার খবরে তিনি উত্তেজিতও হয়ে পড়েন।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ হয়নি। গৌরীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অনশনকারী তরুণীর ঘটনায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে ২০০৩ সনের ২৬ জুন ডৌহাখলা ইউনিয়নের সুমা আক্তারের সঙ্গে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরহরিপুর গ্রামের মো. আশরাফ উদ্দিনের ছেলে আবদুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চলছিল, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন সুমা আক্তার। এ অভিযোগে মামলাও করেন তিনি। এবার তার অনুমতি ছাড়াই স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এ নিয়েও মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×