উলিপুরের সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:১০ | অনলাইন সংস্করণ

জন্মদাতা পিতার হাতে নির্দয় নির্যাতনের শিকার শিশু আশামনির খোঁজখবর নিতে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন
জন্মদাতা পিতার হাতে নির্দয় নির্যাতনের শিকার শিশু আশামনির খোঁজখবর নিতে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন

জন্মদাতা পিতার হাতে নির্দয় নির্যাতনের শিকার শিশু আশামনির খোঁজখবর নিতে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন।

বুধবার বিকালে তিনি সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল আসলাম, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার, সাংবাদিক পরিমল মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে আশামনির সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং নগদ অর্থ, নতুন জামা কাপড়সহ উন্নত চিকিৎসার জন্য সব দায়িত্ব নেন।

একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশু আশামনির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সঠিক এবং নিরাপদ অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন ডিসি।

ব্যাপক আলোচিত শিশু আশামনির নির্যাতরে ঘটনাটি শুধু উলিপুরে নয় কুড়িগ্রাম জেলা শহরেও এখন টক অব দ্যা টাউন।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি গোচর হয়। নির্যাতনের ঘটনায় বাবা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শিশুটির পালিত বাবা ইদ্রিস আলী শিশু আইনে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আশরাফুল আলমকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

উল্লেখ্য, জেলার উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মাদারটারি গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম কন্যা সন্তান আশামনিকে (৪) প্রতিনিয়ত নির্যাতন করত। এরই একপর্যায়ে গত সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

শিশুটি গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকাবাসী শিশুটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে এবং পাষণ্ড বাবা-মাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ শিশুটির বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ইদ্রিস আলী জানান, শিশুটিকে তার বাবা-মা ৪০ দিন বয়সে তার স্ত্রীর কাছে রেখে ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজে যায়। টানা সাড়ে ৩ বছর এই শিশুটিকে তারা লালন-পালন করে। ছয় মাস আগে তারা বাড়িতে ফিরে এসে তারা শিশুটিকে নিয়ে যায়। কিন্তু অবোধ এই শিশুটি আমাদেরকেই বাবা-মা হিসেবে জানত ও ডাকত। প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে গেলেও তাদেরকে বাবা-মা বলে ডাকত না।

তিনি জানান, আমাদের কাছে আসার জন্য পীড়াপীড়ি করত। এ ছাড়া শিশুসুলভ ছোটখাটো দুষ্টুমি তো ছিলই। পান থেকে চুন খসলেই এই শিশুটির ওপর নেমে আসত পাশবিক নির্মম নির্যাতন। খাবার না দিয়ে কখনো হাত-পা বেঁধে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে গোটা শরীরে পেটানো হতো। হাত বেঁধে পুকুরের পানিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। এমনকি মাটিতে গর্ত করেও রাখা হতো। গত সোমবারের ঘটনায় শিশুটি সংজ্ঞাহীন হয়ে পরলে তাকে উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, শিশুটির গোটা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এক্স-রে করার পর তার ডান দিকের কলার বোনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও শিশুটি মানসিকভাবে ট্রমায় ভুগছে। বুধবার জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে শারীরিক ও মানষিক চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, এ রকম নির্দয় বাবা-মা হতে পারে তা আশামনির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে বুঝতে পারলাম। আশামনির মতো একটি ফুটফুটে সদা হাস্যোজ্জ্বল শিশুকে দেখলে পাষানেরও হৃদয় গলার কথা।

ডিসি বলেন, জেলা প্রশাসন আশামনির চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করবে। একইসঙ্গে আশামনির উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তা করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×