জামিন পেলেন রোহিঙ্গা নারী পেটানোয় গ্রেফতার দুই মাদ্রাসাশিক্ষক

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি

ছবি: ইউটিউব

রোহিঙ্গা নারী পেটানোর মামলায় জামিন পেয়েছেন বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বাসস্টেশনসংলগ্ন ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার দুই শিক্ষক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলীকদম থানার ওসি রফিক উল্লাহ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) এক নারীকে পেটানোর অভিযোগে মাওলানা মাহমুদুল করীম ও শিক্ষক আলমগীর নামে দুই মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেফতার হন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার টিউবওয়েল থেকে পানি নেয়ার অপরাধে ওই নারীকে পেটান দুই মাদ্রাসাশিক্ষক।

ওইদিন আহত নারী আলীকদম থানায় নারী নির্যাতনের মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবারের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, মাদ্রাসার ওজুখানার সামনে হঠাৎই এক নারীর ওপর হামলা করছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক। এ সময় সঙ্গে আরও এক মাদ্রাসাশিক্ষককে দেখা গেছে। তারা ওই নারীকে তাড়িয়ে দেন।

ঘটনার বিবৃতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ছিল মাদ্রাসার বার্ষিকসভা। এ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক অতিথির আগমন ঘটবে জানিয়ে মাদ্রাসার টিউবওয়েল থেকে এ দুদিন পানি না নিতে স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু সে অনুরোধ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী আহমদ শরীফের ছেলে মোহাম্মদ আলম (১৯) মাদ্রাসায় ঢুকে মোটরের সুইচ টিপে পানি উত্তোলন করতে গেলে ছাত্ররা বাধা দেন ও তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

এ সময় মোহাম্মদ আলমকে চড় মেরে তাড়িয়ে দেন মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা শামসুল হুদা।  খবর পেয়ে ছেলেকে পেটানোর প্রতিবাদে মা সালমা বেগম (৩৮) সেখানে উপস্থিত হন এবং মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় দুই মাদ্রাসা শিক্ষক ওই নারীর গায়ে হাত তোলেন ও তাড়িয়ে দেন। নারীর ওপর শিক্ষকদের এ হামলার ভিডিও করেন অনেকে। পরে তা ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, অভিযোগকারী সালমা বেগম এবং তার স্বামী রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আলীকদম এলাকায় বসবাস করছেন।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার দিন ছেলেরা মাকে উদ্ধার না করে নিজেরাই ভিডিও করে এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।


ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার পরিচালক শামসুল হুদা সিদ্দিকী পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।