রংপুরে চিকিৎসার নামে শিশুকন্যা হত্যা, মাসহ আটক ৩
jugantor
রংপুরে চিকিৎসার নামে শিশুকন্যা হত্যা, মাসহ আটক ৩

  রংপুর ব্যুরো  

৩০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৮:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর সদর উপজেলায় পালিচড়া ফাজিলখাঁ বালাপাড়া গ্রামে ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা ফারুক মিয়া।

পরে নিহত শিশুর মাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন।

তিনি জানান, গত শনিবার আমরা সংবাদ পাই যে পুকুরে পড়ে একটা বাচ্চা মারা গেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মা মোশরেফা খাতুনের (২৬) সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।

জাকির হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটির মায়ের কাছ থেকে কিছু রহস্যজনক তথ্য পাওয়া যায়। শিশুর মা জানান- জন্মের পর থেকে বাচ্চাটা প্রায় অসুস্থ থাকতো তাই কবিরাজি চিকিৎসা করানো হয়েছে। ওই সুত্র ধরে উক্ত সামসুল কবিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে শিশুটিকে গভীর রাতে পুকুরে চুবানো হয়েছে।

শিশু ফারিয়ার মা মোশরেফা খাতুন পুলিশের কাছে জানান, শুক্রবার রাতে শিশুর বাবা পার্শ্ববর্তী এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে কবিরাজ সামছুলের কথা মতো, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কবিরাজ, কবিরাজের বোন সান্তনা মিলে শিশুকে নিয়ে পুকুর পাড়ে যায়, এবং কবিরাজের কথা মতো পুকুরে বাচ্চাকে চুবাতে থাকে। তখন হঠাৎ ঝড় শুরু হলে, তারা ভয়ে বাচ্চাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর পুকুরে গিয়ে বাচ্চাকে খুঁজে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। ধারণা ছিল বাচ্চাটা বেঁচে আছে। তাকে সুস্থ করতে তেল মালিশ করতে থাকে, কিন্তু কোনো কিছুতেই বাচ্চা নড়াচড়া করছিল না।

পরে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হাসপাতালে নেয়ারও চেষ্টা করে তারা। তাদের সঙ্গীয় লোকজন বাচ্চা মারা গেছে বুঝতে পেরে আর হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। পরদিন নাটকীয়ভাবে প্রচার করে শিশু বাচ্চাটি পুকুরে পড়ে মারা গেছে।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রংপুর সদর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, আটককৃত কবিরাজ সামছুল ও শিশুর মাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপর আসামি সান্তনাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

রংপুরে চিকিৎসার নামে শিশুকন্যা হত্যা, মাসহ আটক ৩

 রংপুর ব্যুরো 
৩০ এপ্রিল ২০১৯, ১০:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর সদর উপজেলায় পালিচড়া ফাজিলখাঁ বালাপাড়া গ্রামে ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা ফারুক মিয়া।

পরে নিহত শিশুর মাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন।

তিনি জানান, গত শনিবার আমরা সংবাদ পাই যে পুকুরে পড়ে একটা বাচ্চা মারা গেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মা মোশরেফা খাতুনের (২৬) সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।

জাকির হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটির মায়ের কাছ থেকে কিছু রহস্যজনক তথ্য পাওয়া যায়। শিশুর মা জানান- জন্মের পর থেকে বাচ্চাটা প্রায় অসুস্থ থাকতো তাই কবিরাজি চিকিৎসা করানো হয়েছে। ওই সুত্র ধরে উক্ত সামসুল কবিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে শিশুটিকে গভীর রাতে পুকুরে চুবানো হয়েছে।

শিশু ফারিয়ার মা মোশরেফা খাতুন পুলিশের কাছে জানান, শুক্রবার রাতে শিশুর বাবা পার্শ্ববর্তী এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে কবিরাজ সামছুলের কথা মতো, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কবিরাজ, কবিরাজের বোন সান্তনা মিলে শিশুকে নিয়ে পুকুর পাড়ে যায়, এবং কবিরাজের কথা মতো পুকুরে বাচ্চাকে চুবাতে থাকে। তখন হঠাৎ ঝড় শুরু হলে, তারা ভয়ে বাচ্চাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর পুকুরে গিয়ে বাচ্চাকে খুঁজে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। ধারণা ছিল বাচ্চাটা বেঁচে আছে। তাকে সুস্থ করতে তেল মালিশ করতে থাকে, কিন্তু কোনো কিছুতেই বাচ্চা নড়াচড়া করছিল না।

পরে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হাসপাতালে নেয়ারও চেষ্টা করে তারা। তাদের সঙ্গীয় লোকজন বাচ্চা মারা গেছে বুঝতে পেরে আর হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। পরদিন নাটকীয়ভাবে প্রচার করে শিশু বাচ্চাটি পুকুরে পড়ে মারা গেছে।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রংপুর সদর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, আটককৃত কবিরাজ সামছুল ও শিশুর মাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপর আসামি সান্তনাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন