হবিগঞ্জে ১৪ বছর কারাভোগ শেষে দেশে গেল ৩ ভারতীয়

  চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জে ১৪ বছর কারাভোগ শেষে দেশে গেল ৩ ভারতীয়
হবিগঞ্জে ১৪ বছর কারাভোগ শেষে দেশে গেল ৩ ভারতীয়। ছবি: যুগান্তর

হবিগঞ্জের জেলা কারাগারে ১৪ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরে গেল ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ৩ সদস্য।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলার বাল্লা সীমান্ত দিয়ে কড়া পাহারায় বাল্লা বিজিবির সহায়তায় তাদেরকে ভারতীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয় চুনারুঘাট থানা পুলিশ।

ভারতে ফেরা যুবকরা হলেন- ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলাই জেলার মনুঘাট থানা এলাকার সবিমোহন ত্রিপুরার ছেলে অন্তমোহন ত্রিপুরা (৩৭) শোভন দেববর্মার ছেলে মৃনাল কান্তি দেববর্মা (৩৫) ও রিয়াসাদে দেববর্মার ছেলে অয়নদয় দেববর্মা (৩৮)।

পুলিশ জানায়, ২০০৩ সালে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় ত্রিপুরা রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ৬ যুবককে অস্ত্রসহ আটক করে থানা পুলিশ।

পরে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষে তাদের প্রত্যেককে ১৪ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। কারাভোগ শেষে তাদের ২ জনকে দুই মাস আগে সীমান্ত দিয়ে এবং একজনকে দেড় বছর আগে হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয়।

বাকি ৩ যুবককে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে চুনারুঘাট থানা পুলিশের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুপুর আড়াইটার দিকে চুনারুঘাট থানার এসআই আল আমিন ও হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাল্লা বিজিবির সহযোগিতায় ত্রিপুরার ধলই জেলার মনুঘাট থানার বিএস শুভেন্দ্র দেবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একই সময়ে দুই মাস আগে ভারতে আটক বাংলাদেশি নাগরিক চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রঞ্জন খানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় বিএসএফ।

রঞ্জন দুই মাস আগে ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলায় চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করে কয়েকদিন আগে মুক্তি পায়। বিএসএফ রঞ্জনকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ-বিজিবি ও বিএসএফ মিলে উভয় দেশের নাগরিকদের হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৯০ দশক থেকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তে ভারতীয় বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের কর্মীরা তৎপর ছিল। ২০০৫ সাল পর্যন্ত তারা সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে আস্তানা গড়ে বসবাস করেছিল। একসময় উপজেলা সাতছড়ি এলাকা ছিল তাদের আশ্রয়স্থল।

২০০৫ সালের পর তারা পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালিয়ে যায়। আবার অনেকেই তখন পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে র‌্যাব কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করে তাদের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ নানা ধরনের মেশিনগানসহ ভারী অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×