বগুড়ার শেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থী নেতা নিহত

  বগুড়া ব্যুরো ০১ মে ২০১৯, ১৯:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থী নেতা নিহত
বগুড়ার শেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থী নেতা নিহত। ছবি: যুগান্তর

বগুড়ার শেরপুরে দু’পক্ষের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার শফিউর রহমান জ্যোতি (৫৫) নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বোয়ালকান্দি সেতুর কাছে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি মোটর সাইকেল পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার এসআই সাহেব গণি হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন। জ্যোতি ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ও শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, শফিউর রহমান জ্যোতি ধুনট উপজেলার প্রতাব খাদুলি গ্রামের মোজাফফর আলীর ছেলে। তিনি পুর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

১৯৮৭ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর থানা লুটের মামলায় তার ৮৪ বছরের সাজা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত হন। ধুনটে উপজেলা চেয়ারম্যান দুদুকে প্রকাশ্যে গুলিতে হত্যা করেছিলেন।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধুনট-শেরপুর সড়কের বোয়ালকান্দি সেতুর কাছে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে দু’দল চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের মাঝে গুলি বিনিময় চলছিল।

খবর পেয়ে সেখানে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার শফিউর রহমান জ্যোতিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে একটি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড কার্তুজ (বন্দুকের গুলি), একটি রামদা ও একটি মোটর সাইকেল পাওয়া গেছে। আহত জ্যোতিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ধুনট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরাফুজ্জামান পাশা জানান, জ্যোতি ৯০ দশকের দিকে সরকারি সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে সর্বহারা পার্টি থেকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তিনি ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, জ্যোতি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দিলেও তিনি সর্বহারা পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। নিহত জ্যোতির লাশ বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ব্যাপারে শেরপুর থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা কেউ লাশ নিতে আসেনি।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল রাত ১টার দিকে শেরপুর উপজেলার ভবানপুর বাজার সংলগ্ন সেতুর উপর দুই চরমপন্থী দলের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) সদস্য সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অর্জুনী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে লিটন সরকার (৩৫) ও তাড়াশ উপজেলার পশ্চিম পাইকড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আফসার আলী (৪৮) নিহত হন। সেখানে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, আট রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি ও চরমপন্থীদের তিনটি পোস্টার পাওয়া যায়।

শেরপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত ৯ এপ্রিল পাবনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে ১৪ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এর বিরোধিতা করে কয়েকজন চরমপন্থী ৮ এপ্রিল রাতে বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুর বাজার এলাকায় পোস্টারিং করছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে ছয় শতাধিক সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন মার্কসবাদ, লেনিনবাদ জিন্দাবাদ।’ শেরপুর থানার একটি টহল দল টের পেয়ে সেখানে যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চরমপন্থীরা গুলিবর্ষণ করে। ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এএসআই নান্নু মিয়া (৪২) আহন হন। ঘটনাস্থল থেকে চরমপন্থীদের লাগানো কিছু পোস্টার এবং ‘গণযুদ্ধ’ নামে একটি পত্রিকাও উদ্ধার করা হয়।

পরে গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নান্নু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে তার পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×