গৌরীপুরে শিক্ষা অফিসারকে হোটেলে আটকালেন চেয়ারম্যান!

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ০২ মে ২০১৯, ২২:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান ও চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর
শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান ও চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর

হোটেলে খাবার খাওয়া হলো না ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খানের। বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নভোজ করতে গেলে ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর তাকে হোটেলেই আটকে রাখেন।

‘টাকা না দিলে যেতে পারবেন না’ ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের সাফ কথা। এ উপজেলায় ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বোমা ফাটল খাওয়ার হোটেলে! ঘুষের টাকা ফেরত চাইলেন চেয়ারম্যান।

দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগে টাকা নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা বলে জানান উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি অভিযোগ করেন, অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম অন্তর তার কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ৪-৫দিন আগেও ফোনে আবারও চাঁদার টাকা চেয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অচিন্তপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী মাছুয়াকান্দার হোটেল ব্যবসায়ী মৃত আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল কাদির ওয়াসিম জানান, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইকবাল হোসেন ও মো. হাদিউল ইসলাম খেতে আসেন। খাওয়ার মাঝখানেই সঙ্গে দুজনকে নিয়ে খেতে আসেন অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম অন্তর।

শহিদ চেয়ারম্যান এ সময় বলেন, আপনি টাকা দেবেন বলে ৪-৫টা তারিখ করেছেন। টাকা দেননি, আজ টাকা দিয়েই যেতে হবে। আগে খান। তারপর কথা হবে।

এ সময় শিক্ষা অফিসার ফোনে কার কার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে দুজনের মাঝে কথা-কাটাকাটি হয়।

দোকানের কর্মচারী তারা মিয়া বলেন, খাওয়ার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আর শিক্ষা অফিসারসহ সবাই খাবারেই হাত ধুয়ে ফেলেন। তবে সব বিল দিয়ে গেছেন শহীদ চেয়ারম্যান।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান।

তিনি জানান, শিক্ষা অফিসারের কাছে টাকা পাবেন এ বিষয়টি শহিদুল ইসলাম অন্তর আগেই জানিয়েছিল। তবে হোটেলে চেয়ারম্যান আর শিক্ষা অফিসারের বাগ্বিতণ্ডা দুঃখজনক। দুজনকেই ফিরিয়ে দিয়েছি। অফিসিয়াল আলোচনা অফিসে হলেই ভালো বলে দিয়েছি।

গৌরীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে হোটেল আটক আর মারধরের খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা ওই হোটেলের দিকে ছুটে যান। থানায়ও যান অর্ধশত শিক্ষক।

পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস বলেন, একজন শিক্ষা অফিসার হোটেলে খেতে গেছেন। সেখানে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

এ দিকে শহরে এখন প্রধান আলোচসূচিতে পরিণত হয়েছে ‘ঘুষ না চাঁদা’! এটা এখন সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা?

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×