আমচাষিদের বাম্পার ফলনের স্বপ্নে দাবদাহের হানা

  শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৩ মে ২০১৯, ১৫:২০ | অনলাইন সংস্করণ

গাছে ঝুলছে আম
গাছে ঝুলছে আম

আমের জন্য বিখ্যাত উত্তরবঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আর জেলায় সবচেয়ে বেশি আম হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। এ জেলার আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়।

চলতি বছর আমের মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল ও কড়ি আসার লক্ষণ দেখে বাম্পার ফলনের আশায় স্বপ্ন বুনছিলেন এ অঞ্চলের আমচাষিরা। তবে তাদের সেই প্রত্যাশায় চিড় ধরাচ্ছে বৈশাখের তীব্র দাবদাহ।

এক সপ্তাহ ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃদু, মাঝারি ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের পর উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা এবার ফের ৪২ ডিগ্রিতে উঠেছে। তীব্র এই গরমে আমবাগানে বেড়েছে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের উপদ্রব।

প্রখর রোদে পুড়ছে মাঝারি আকারের আম। বোঁটা শুকিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক হারে ঝরে পড়ছে আম। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ঝরেপড়া আম ৫ টাকা কেজি হিসেবে।

আমচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ৩-৪ বছরে এ অঞ্চলে এবারের মতো এত গরম পড়েনি। সূর্যের যে তাপ, তাতে মানুষ বাইরে বের হতে পারছে না। তা হলে আমের কী অবস্থা তা বুঝতেই পারছেন!

তিনি বলেন, গরমে পোকামাকড় বেশি হয়। দ্রুত তা বাগানে ছড়িয়ে পড়ে। মৌসুমের শুরু থেকে যত যত্নই করা হোক, হঠাৎ পোকা লাগলে সব শেষ হয়ে যায়। তখন স্প্রে করেও তা ঠেকানো যায় না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আমচাষি শাকিল হোসেন বলেন, আমাদের আম দেরিতে পাকে। ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি আম পাকতে এখনও দেড় থেকে দুই মাস লাগবে। আম পাকার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকবেই।

তিনি বলেন, ‘আম যত পুষ্ট হচ্ছে, এক ধরনের কাটাপোকা ভেতরে ঢুকে গর্ত করে ফেলছে। গরম বেশি পড়লে এই পোকার আক্রমণও বেড়ে যায়। এখন যদি আমরা বালাইনাশক ব্যবহার না করি, তা হলে যে আম গাছে এসেছে, তা আর কিছুই ভালো থাকবে না।’

কানসাটের শ্যামপুর এলাকার কাইয়ুম হোসেন বলেন, অপুষ্ট আম হলুদ রঙের করে বাজারে বিক্রির জন্য একটি গোষ্ঠী চেষ্টা করে থাকে। সেটি আম বাগানে করা হয় না, আড়তে ব্যবসায়ীরা করে থাকেন। আমে ফরমালিন ব্যবহার ঠেকাতে বাগানে পুলিশ না পাঠিয়ে রাসায়নিক দ্রব্য বা বিশেষ জাতীয় হরমোন বিক্রি বন্ধে অভিযান চালালে বেশি ভালো হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর রাজশাহীতে রেকর্ড ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমির বাগান থেকে ৩ লাখ টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে গত ৯ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের যৌথসভায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সমন্বয়ে ১৫টি পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হয়। যাদের কাজ বাগানগুলোতে যাতে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে নজর রাখা।

ফলে ১২ এপ্রিল থেকে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের নজরদারি থাকায় বাগানে ঠিকমতো পরিচর্যা করতে পারছেন না চাষিরা। ফলে আম উৎপাদনের রেকর্ড পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ‘কেমিক্যাল ব্যবহারের’ কথিত ভয়।

আমচাষিরা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রখর রোদ ও তীব্র গরমে আম শুকিয়ে যাচ্ছে। বোঁটা নরম হয়ে হালকা বাতাসে তা ঝরে পড়ছে। একই সঙ্গে গরমের কারণে বিভিন্ন ধরনের বালাইয়ের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ফলে পাকার উপযোগী হওয়ার আগেই ব্যাপক হারে আম ঝরেপড়ার শঙ্কার কথা বলছেন চাষি ও বিশেষজ্ঞরা।

আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের আদেশের কারণে সবার মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। কেউ চাইলেও কীটনাশক বা বালাইনাশক দিতে পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে দাবি করে কয়েকজন আমচাষি জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে বালাইনাশক স্প্রে করা আর আম পাকানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা আলাদা জিনিস। কিন্তু তা না বুঝেই প্রশাসন কোনো স্প্রে করতেই দিচ্ছে না। এতে এ অঞ্চলের আমের যে উৎপাদন ও ব্যবসা তাতে ভাটা পড়তে পারে বলে দাবি করেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, বালাইনাশক ব্যবহার আর ফরমালিন ছিটিয়ে আম পাকানো এক বিষয় নয়। আম সংগ্রহের দুই সপ্তাহ আগে বালাইনাশক ব্যবহার করলেও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব খাওয়ার জন্য উপযোগী আমে থাকে না।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×