৩২ বছর ধরে পেটে ভাত পড়েনি শামীমের!

  নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৯, ১৯:৪৮:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

শামীম খান। ছবি: সংগৃহীত

ভাত বাঙালিদের প্রধান খাদ্য। আর ভাত ছাড়া বাঙালিদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ময়মনসিংহের নান্দাইলের এক যুবকের ৩২ বছর ধরে তার পেটে ভাত পড়েনি।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের মেরেঙ্গা গ্রামের সাইদুর রহমান খানের ছেলে শামীম খান। জন্মের পর থেকেই ভাতের স্বাদ ভোগ করতে পারেননি তিনি। তার পেটে ভাত পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বমি হয়ে যায়। এ যেন এক সৃষ্টিকর্তার অন্য লীলা খেলা। ভাত ছাড়া অন্যান্য খাদ্য খেয়ে বেঁচে আছেন শামীম।

এলাকাবাসী জানান, ছোটকাল থেকেই শামীম অন্যদের মতো নয়। আটা রুটি ও ফলমূল খেয়ে জীবন ধারণ করছেন তিনি। তবে ১২ মাসের ১০ মাসই তিনি অসুস্থ থাকেন। কবিরাজি, ভেষজ, হারবালসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করলেও ভাতের স্বাদ ভোগ করতে পারেননি শামীম।

শামীমের মা মোছা. মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ভাত খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আমার সন্তানের আশা ভাতের স্বাদ ভোগ করার। কিন্তু ভাত তার নাকের কাছে নিলেই তার কাছে দুর্গন্ধ লাগে। যার ফলে সে তা খেতে পারছে না।’

বর্তমানে শামীম খানের এক ছেলে ও এক মেয়েসহ স্ত্রী নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। অন্যের জমিতে চাষাবাদ ও দিনমজুরি করে তার সংসার চলে। অর্থাভাবে তিনি উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অন্যদের মতো তিনিও ভাতের স্বাদ ভোগ করতে চান।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি সুলতান উদ্দিন জানান, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সে ভাত ও মাছ খেতে পারে না যার ফলে সে দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কাজী এনামুল হক জানান, ‘ভাত না খেয়েও অন্যান্য খাদ্য খেয়ে বেঁচে থাকা যায়। পরিপাকতন্ত্রের গোলযোগ থাকার কারণে তার পেটে ভাত সহনীয় নয় বলে তা খেতে পারছেন না শামীম। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত