১০ টাকার শাক নিয়ে হোসেনপুর রণক্ষেত্র

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও হোসেনপুর প্রতিনিধি ০৯ মে ২০১৯, ২১:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

গ্রামবাসী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে জেলার হোসেনপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকা রণক্ষেত্র
গ্রামবাসী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে জেলার হোসেনপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকা রণক্ষেত্র

১০ টাকার পাট শাক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুদল গ্রামবাসী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে জেলার হোসেনপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ দফায় দফায় চলে গভীর রাত পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১৩ রাউন্ড গুলি ও ১১টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এ ঘটনায় সাত পুলিশসহ অন্ততপক্ষে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে পুলিশ ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ওবায়দুর রহমান (৪৮), আলমগীর হোসেন(১৮), লিটন মিয়া (৩৮), ওমর ফারুক (৪০), আলফাজ (৪৩), ইব্রাহিম মিয়া (৫০), পায়েল মিয়া (৪০), আবির হোসেন (৪৮) ও মন্টু মিয়া (১৮)। তাদেরকে রাত ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদের মধ্যে লিটন মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া হোসেনপুর হাসপাতালে ৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষের পর পুরো হোসেনপুর শহরসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়. গত বুধবার রাতে উপজেলার নতুন বাজারে সাহেবের চর গ্রামের কৃষক মুস্তফা মিয়া পাট শাক বিক্রি করতে আসে। এ সময় পদুরগাতি গ্রামের শহীদ মিয়া পাটশাক ক্রয়ের সময় দরদাম নিয়ে মুস্তফার সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাহেবের চর ও পদুরগাতি গ্রামের দুপক্ষের শতশত লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে নতুন বাজার এলাকায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১ রাউন্ড টিয়ারসেল ছুঁড়ে এবং লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসিরুজ্জামান সেলিম জানিয়েছেন, বিভিন্নভাবে আহত ৩৩ জন তার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন গুলিবিদ্ধ আছে। এ ৯ জনসহ মোট ১৩ জনকে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হোসেনপুর হাসপাতালে চারজন ভর্তি রয়েছে। আর বাকি ১৬ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হলে হোসেনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন যুগান্তরকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জ থেকে এক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব তলব করা হয়।

এ ছাড়াও কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলাম সোপান ও হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমল কুমার ঘোষের উপস্থিতিতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক এবং মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×