নার্স তানিয়া হত্যায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না: ঢাকা ডিআইজি

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ১২ মে ২০১৯, ২৩:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

তানিয়া হত্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন
তানিয়া হত্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, চলন্ত বাসে নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় জড়িত তিনজনই পরিবহন সংশ্লিষ্ট। তারা কিশোরগঞ্জের বাইরের লোক। আর এদের দুজনই পুলিশ হেফাজতে আছে। অন্যজনকে গ্রেফতারে জোর পুলিশী অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। পাশাপাশি নির্দোষ কোনো ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবে না।

এ মামলার অগ্রগতি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এসব বলেন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি ঘটনাস্থল পিরিজপুরের গজারিয়া বিলপাড়া জামতলী এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় চলন্তবাসে গণধর্ষণ ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন এবং বাস থেকে তানিয়াকে ছুঁড়ে ফেলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন ও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বাজিতপুর থানায় গিয়ে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রিমান্ডে থানা হেফাজতে থাকা অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় এ মামলার তদন্তের এসব অগ্রগতি ও সাফল্য নিয়ে মিডিয়ার মুখোমুখি হন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

এ সময় তিনি বলেন, তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বিচার দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে দ্রুত বিচার আইনে এ ঘটনার বিচারের দাবি উঠছে। চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনা হিসেবে এ ঘটনার বিচার দ্রুত বিচার আইনে হতেই পারে। তবে, চার্জশিট দাখিলের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনা হবে।

অপরদিকে, তানিয়ার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট রোববার বিকালে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে চিকিৎসকগণ।

এ ব্যাপারে রোববার বিকাল ৫টার দিকে কথা হলে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান কিছুক্ষণ আগে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার এবং এর একটি কপি পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও অন্য একটি কপি বাজিতপুর থানা পুলিশের কাছে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দেখা গেছে তানিয়ার শরীরের ১০টি গুরুতর জখম রয়েছে। এর মধ্যে মাথার আঘাত খুবই গভীর। স্পষ্ট ধর্ষণের আলামতের পাশাপাশি গভীর জখম থাকায় বুঝা গেছে তাকে ধর্ষণের পর গুরুতর আঘাতের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

অবশ্য, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাননি বলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়া বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে প্রথম রোজা রাখার উদ্দেশ্যে গত ৬ মে সোমবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে ফিরছিলেন।

সন্ধ্যার পর তিনি বিমানবন্দর থেকে মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুরের পিরিজপুরে চলাচলকারী স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে উঠেন।

বাসে গাজীপুর জেলার সীমানা পার হওয়া পর্যন্ত বাবা গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে কয়েকদফা কথা বলছিলেন।কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে তানিয়া চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন এবং ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুরের গজারিয়া জামতলী এলাকায় বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনা দেখে দুই ব্যক্তি তানিয়াকে অজ্ঞাত পরিচয়ের নারী হিসাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে থানায় খবর দেন।

মঙ্গলবার ভোরবেলা খবর পেয়ে তানিয়ার স্বজনরা হাসপাতালে এসে এ লাশ তানিয়ার হিসাবে শনাক্ত করেন।

স্বজনরা তানিয়াকে নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগ তুললে পুলিশ স্বর্ণলতা পরিবহনের ওই বাসের চালক নূরুজ্জামান এবং হেলপার লালনকে গ্রেফতার করে। একই দিন কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তে তানিয়াকে ধর্ষণ করে হত্যা করার কথা জানান ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্যের চিকিৎসক দল।আর তখন এ ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনা হিসাবে মামলা নেয় পুলিশ।

তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাসচালক নূরুজ্জামান, হেলপার লালন ছাড়াও আল আমিন ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামে অন্য দুই ব্যক্তিকে এ মামলায় আসামি করেন। দেশ তোলপাড় করা এ ঘটনা সামাল দিতে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে রফিক, বকুল ও খোকন নামে আরও তিন ব্যক্তিকে।

পুলিশ ওই পাচঁজনকে গত বুধবার আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করলে বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন তাদের প্রত্যেককে ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদের মধ্যে বাসচালক নুরুজ্জামান ও লালন শনিবার বিকালে একই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×