মাদ্রাসা ফিরিয়ে দেন, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি: বাবুনগরী

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ২২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অনতিবিলম্বে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন ওয়াজেদিয়া (অনন্যা আবাসিক সংলগ্ন) ওমর ফারুক আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বহিরাগতদের হামলাকারীদের বিচারের আওতায় এনে অবৈধ দখলদারমুক্ত করে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে দিতে হবে। অন্যথায় আগামী জুমাবার হাটহাজারী ঐতিহাসিক ডাকবাংলো চত্বরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলসহ আসতে পারে কঠোর কর্মসূচি।

প্রয়োজনে দেশের লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ করে বায়েজিদ থানাধীন ওমর ফারুক আল জামিয়া উদ্ধারে লংমার্চ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।
 
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা জান্নাতুল ইসলাম, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা জাফর আহমদ, ওমর ফারুক মাদ্রাসার নুতন পরিচালক ও তালিমুল কুরআন কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ তৈয়ব, মুফতি হাসান মুরাদাবাদী, কারী ফজলুল করিম জিহাদী, মুফতি ওসমান সাদেক, মাওলানা মীর ইদরিস, হাফেজ মোহাম্মদ ফায়সাল, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মাওলানা মনজুরুল কাদের, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা সফিউল্লাহ, মাওলানা সরোয়ার আলম, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মনসুরুল হক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সায়েমুল্লাহ, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা শামসুদ্দিন আফতাব, মাওলানা নুরুন্নবী, মাওলানা হাফেজ আইয়ুব, ওমর ফারুক মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লির পক্ষে মাওলানা তারেক ফায়সাল ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মাওলানা মুফতি নুর মোহাম্মদ, নিহত ছাত্র হাবিবুর রহমানের পিতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পৃষ্ঠপোষকতায় বিগত ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদ্রাসাটি অদ্যবধি এলাকায় সহীহ কুরআন হাদিস ও ইসলামি শিক্ষার ব্যাপক খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। সাত শতাধিক এতিম ও দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ফ্রি পড়ালেখা, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার সুষ্ঠু-সুন্দর বন্দোবস্ত করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানের অধীনে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত একটি মহিলা শাখাও রয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এলাকার বিপুলসংখ্যক অসহায়, দরিদ্র, বিধবাদের নিয়মিত ভাতা এবং ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

কওমি মাদ্রাসাসমূহের সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড বেফাকের অন্তর্ভুক্ত এ মাদ্রাসাটিতে বিগত ১০ এপ্রিল হিফজ বিভাগের ছাত্র হাবিবুর রহমান মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করে।

মাদ্রাসার একজন কিশোর ছাত্রের করুণ মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত দাবি করে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হাবিবুর রহমান আমাদের সন্তান। একজন ছাত্রের অকাল মৃত্যু অবশ্যই হৃদয়বিদারক। এতে আমরা চরমভাবে ব্যথিত হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডে যে বা যারাই জড়িত থাকুক সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শান্তির দাবি করছি।

তবে ঘটনার পর থেকেই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা মাদ্রাসাটির অবস্থা ও সৃষ্ট পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন এমনটা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দরা বলেন যে, হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনাটিকে পুঁজি করে এলাকার কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি উক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি কব্জা করে নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

এরমধ্যে গত ১১ এপ্রিল সকাল ১১টায় কতিপয় বহিরাগত ব্যক্তি দা-ছুরি, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদ্রাসাটিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অনেক সাড়ে ছাত্র-শিক্ষককে গুরুতর আহত করে। তারা অফিস ও আবাসিক ভবনের তালা ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। এমনকি মহিলা শাখার ছাত্রীরাও তাদের কুরুচিপূর্ণ ব্যবহার ও অসদাচরণের শিকার হয়।

এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি হামলাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়েছেন বলে নেতৃবৃন্দ জানিয়ে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য মাদ্রাসার পরিচালকসহ ৫ জন শিক্ষক বায়েজিদ থানায় উপস্থিত হলে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখার পর তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠানো হয়। যা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে জানান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়ার সুবিধার্থে উক্ত মাদ্রাসা ও মসজিদটি বহিরাগত লোকদের কব্জা থেকে মুক্ত করে মোতাওয়াল্লি কর্তৃক মনোনীত কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা, গ্রেফতারকৃত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যে পর্যন্ত আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত না হন সে পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী দুর্বৃত্তের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা ও অবিলম্বে বহিরাগত সন্ত্রাসী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উত্থাপন করেন।

অন্যথায় দেশের ক্ষুব্ধ আলেমসমাজ, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোনো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।