পুলিশের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করব: ফেনীর নতুন এসপি

  ফেনী প্রতিনিধি ১৫ মে ২০১৯, ২২:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

নতুন এসপি কাজী মনিরুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
নতুন এসপি কাজী মনিরুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নবাগত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান। বুধবার দুপুরে ফেনী পুলিশ লাইন মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় নবাগত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনী জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি যেটুকু ক্ষুণ্ণ হয়েছে কাজের মাধ্যমে তা উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না।

তিনি বলেন, আজ থেকে এ জেলার পুলিশকে কোনো অন্যায় কাজ করতে দেয়া হবে না। আমি তা হতে দেব না। মাদক দিয়ে কোনো সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। আমি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মাঝে সে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে চাই।

কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাসী, জঙ্গি, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নয়। অন্যায়কারীকে কোনো ধরনের প্রশয় নয়।

পুলিশ সুপার বলেন, পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে যানজট ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কোথাও আইন-শৃঙ্খলা কিংবা শান্তি ভঙ্গ হতে পারে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ খালেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান হত্যার ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী এএসএম জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অনুযায়ী রোববার তাকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে একই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছডি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহানকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন মাদ্রাসার একদল ছাত্রছাত্রী। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তারা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া এবং মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসপি জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েক পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি জেলা পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত ওসিকে রক্ষায় ঘটনা সম্পর্কে ভুল তথ্য পাঠান পুলিশ সদর দফতরে।

বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। এর মধ্যে নুসরাতের পরিবারের দাবির মুখে প্রথমে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে বদলি করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশের দায়দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে ১৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এসএম রুহুল আমিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৩০ এপ্রিল কমিটি তাদের প্রতিবেদন পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে জমা দেয়।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসআই ইকবাল হোসেন নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করেন। পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার সকাল ১০টায় নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার খবর পেয়েও ঘটনাস্থলে যাননি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে রওনা দেন। পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×