ডিম নষ্ট করা সেই ৬ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায়

ঘুষ না দেয়ায় পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে দেয়ার ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তাদের হাইও‌য়ে বগুড়া রি‌জিয়ন সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত তদ‌ন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় পু‌লিশ সদস্যকে ক্লোজড ক‌রা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পরপর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডি‌মের মা‌লিকের সঙ্গে যো‌গা‌যোগ ক‌রেন।  ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এক‌টি অভিযোগ দায়ের করেন।

সেই অভিযো‌গের ভিত্তিতে বিষয়‌টি তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইওয়ে পু‌লিশের এস‌পি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দা‌য়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান এআইজি মো. সোহেল রানা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে একটি পিকআপ ভ্যানে ৩৫ হাজার একশ’ ডিম নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে নাটোর যাচ্ছিল। পথে আগ্রান সূতিরপাড় এলাকায় পিকআপের চাকা পাংচার হয়ে গেলে সেটি পাশের ফিডার রোডে নেমে যায়।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পিকআপ উদ্ধারের জন্য রেকার ভাড়াসহ ২০ হাজার টাকা দাবি করে।

কিন্তু চালক এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যরা পিকআপে ডিমের খাঁচি বাঁধার রশি চাকু দিয়ে কেটে দেয়। এতে ডিমের খাঁচি রাস্তায় পড়ে অধিকাংশই ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় নারীরা রাস্তায় পড়ে থাকা ভাঙাচোরা ডিম কুড়িয়ে নিচ্ছেন। রাস্তাজুড়ে ভাঙা ডিমের হলুদ কুসুম ছড়িয়ে রয়েছে।

ট্রাকের চালক-হেলপার ভাঙা ডিম ফেলে প্লাস্টিকের খাঁচিগুলো সংগ্রহ করছেন। রাস্তায় যত্রতত্র কেটে ফেলা রশিগুলো পড়ে রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুকুরের পাহারাদার শহীদুল ইসলাম ও আতাহার আলী জানান, চালক-হেলপার বারবার অনুরোধ করা স্বত্ত্বেও পুলিশ পিকআপের রশিগুলো কেটে দিয়েছে। রশি না কাটলে ডিমগুলো নষ্ট হতো না। পুলিশ ডিমসহ পিকআপটি রেকারে করে থানায় নিয়ে গেলে কী এমন ক্ষতি হতো?

পিক-আপের চালক সিরাজগঞ্জ সদরের মজনু মিয়া জানান, আমার গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে ফিডার রাস্তা নেমে গেলেও কোনো ডিম পড়েনি। কিন্তু পুলিশের দাবিমতো ঘুষ না দেয়ায় তারা রাগে ডিম বাঁধার রশি কেটে দেয়ায় সব ডিম রাস্তায় পড়ে গেছে।

ডিমের মালিক বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আমি চালকের মোবাইল দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং রশি না কাটার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শুনেনি। এতে আমার পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম নষ্ট হয়ে গেল।