গুটি আমে জমেনি বাজার, সোমবার আসছে গোপালভোগ

  চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১৯ মে ২০১৯, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

বাজারে গুটি আম
বাজারে গুটি আম

রাজশাহীতে প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় মেনেই গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আম পারা। আগাম জাতের গুটি আম ভাঙা শুরু হয়েছে গত কয়েকদিন আগেই। তবে সোমবার ধেকে ভাঙা যাবে সুস্বাধূ হিসেবে খ্যাত গোপালভোগ।

তবে হাট-বাজারে আমের উপস্থিতি কম এবং দামটা অনেক চড়া হওয়ায় বিক্রিটাও এখনো জমে উঠেনি তেমনভাবে। তবে গোপাভোগ নামলে কিছুটা বেচা বিক্রি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, রমজান মাসের কারণে আমের বেচাকেনা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা কম হয়। এ ছাড়া কেবলই গুটি আম ভাঙা শুরু হয়েছে। গোপালভোগ ভাঙার অনুমতি আজ থেকে। আর অন্য জাতের সুস্বাদু আমগুলো গাছে পরিপক্ব হতে আরও সময় বাকি আছে। যে কারণে এখনই তড়িঘড়ি করে বাগান থেকে আম ভাঙতে চাইছেন না চাষিরা।

ঈদের পর ভালো দামের আশায় এখনও আমের পরিচর্যা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন আমের রাজধাণী হিসেবে পরিচিত চারঘাট-বাঘা অঞ্চলের চাষিরা।

উত্তরবঙ্গের সর্ববৃত্তম আমের বাজার হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে এখনো জমে উঠেনি আমের বাজার। ফলে এখনো তেমনভাবে চালু হয়নি আড়ৎদারী। অল্প কিছু আম দিয়ে কেবল আড়ৎগুলো চালু করার চেষ্টা চলছে।

তবে বর্তমানে যে গুটি আম ভাঙা হচ্ছে সেগুলো প্রতিমন পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকায়। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

আর সরবরাহ কম ও দাম বেশি থাকায় ক্রেতাও তুলনামূলক কম। এমনিতেই স্বাদ কম হওয়া আঁশ যুক্ত গুটি আমের ক্রেতা কম। এর ওপর দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা কেবল দর-দাম করেই চলে যাচ্ছেন। অনেকে আবার নতুন ফল হিসেবে শখ করে সন্তান বা পরিবার-পরিজনের জন্য অল্প পরিমাণে কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহী অঞ্চলে সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম। এবার জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে থেকে গুটি আম নামাতে পারছেন চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে।

এ ছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আমরূপালি এবং ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা জাতের আম।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলমান তাপদাহ কেটে গেলে আর নতুন কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ না আসলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্য হবে না বলেও মত দেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম আবদুল কাদের বলেন, বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী কেবলমাত্র গাছে পাকলেই গুটি আম পাড়তে পারবেন চাষিরা। আর বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী অন্য আম ভাঙতে পারবেন গাছ থেকে। তবে যদি কোনো আম আগেই পেকে যায় সেগুলোও ভাঙতে পারবেন। কিন্তু এজন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে।

আম ভাঙার বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাদের এরই মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান রাজশাহী জেলা প্রশাসক।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×