কাতারে জিয়ার মৃত্যুতে গোয়ালন্দের বাড়িতে মাতম

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ১৯ মে ২০১৯, ২০:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

উঠানে তিন শিশু কন্যা সন্তানদের নিয়ে কান্না করছেন জিয়া খানের স্ত্রী বিউটি আক্তার। ইনসেটে জিয়া খান
উঠানে তিন শিশু কন্যা সন্তানদের নিয়ে কান্না করছেন জিয়া খানের স্ত্রী বিউটি আক্তার। ইনসেটে জিয়া খান

পরিবারের অভাব দূর করতে ৯ মাস আগে ধার দেনা করে কাতারে পাড়ি জমায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জিয়া খান (৩৬)। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দির আব্দুর রাজ্জাক খানের ছেলে।

গত ৫ মে প্রথম তারাবির রাতে মসজিদে নামাজ আদায়কালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উঠানে তিন শিশু কন্যা সন্তানদের নিয়ে কান্না করছেন জিয়া খানের স্ত্রী বিউটি আক্তার। প্রতিবেশীর অনেকেই তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। শান্তনার ভাষা কারো জানা নেই। জিয়ার মা অনেক আগে মারা গেছে। বাবা আবদুর রাজ্জাক দিনমজুর। সকালেই কাজে গেছেন।

জিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তার বলেন, সংসারে তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রিয়া আক্তার মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং দ্বিতীয় মেয়ে আফরোজা আক্তার পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। ছোট মেয়ে জান্নাতি স্কুলে যায়নি। পাঁচ সদস্যের সংসারে টানাপোড়নে কষ্টে ধার দেনা করে কাতার গিয়েছিলেন তার স্বামী। কাতার বারোয়া লেবার ক্যাম্পে মিকমিট কোম্পানীতে রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। তবে তাকে যে পরিমাণ বেতন দেয়ার কথা ছিল তা থেকে অনেক কম দিতো।

বিউটি আক্তার বলেন, অসুস্থ হওয়ার আগে ফোনে ম্যাসেঞ্জারে ভয়েস রেকর্ডে জিয়া বলেছিল, ‘আমি কেবল ডিউটি শেষ করেছি। কিছু টাকা পাঠিয়েছি তা দিয়ে তিন মেয়ের ঈদের কাপড় কিনে দিও। বেশি দামি না কিনে কম দামের দিও। ভালো কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ্য আমার নেই। সারা মাস চলবো কিভাবে?

তিনি বলেন, ওই দিন সকালে ফোনে বলেছিল, ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। সাবধানে টাকা তুইলো। হিসেব করে খরচ কইরো। আমার জন্য দোয়া কইরো। সবাইকে দেখেশুনে রেখ।

বিউটি আক্তার বলেন, প্রথম তারাবি নামাজ পড়কালীন স্ট্রোক করলে তার এক রুমমেট ফোনে জানায়। এর পর কাতারের আহম্মদ হাসপাতালে লাইফ সাপোটে রাখা হয়। শুক্রবার বিকালে হাসপাতাল থেকে ফোন আসে সে মারা গেছে। এখন আমি এই তিন মেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবো? আমি আমার স্বামীর দ্রুত লাশ ফিরে পেতে চাই। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান জানায়, জিয়া খুবই ধর্মভীরু ও ভাল একজন যুবক ছিল। দেশে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতো। সংসারের চালাতে গিয়ে অনেক টাকা দেনা হয়ে পড়ে। সংসারের অভাব দুর করার জন্য শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতায় এবং ধার দেনা করে সে কাতার যায়। এখন তার সংসার দেখার মতো কেউ নেই।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×