চাটমোহরে কেমিক্যালে পাকানো কলায় বাজার সয়লাব

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ২১ মে ২০১৯, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

মজুতকৃত কাচা কলার গোডাউনে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম
মজুতকৃত কাচা কলার গোডাউনে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম

পাবনার চাটমোহরে কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক এবং বিভিন্ন ফল গাছে দেয়া কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে কাঁচা কলা। আর সেগুলো প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাট-বাজারে।

পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার সর্বত্র এইসব কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলায় সয়লাব। কাঁচা কলায় কেমিক্যাল স্প্রে করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেকে যাচ্ছে। আর নিমিষেই চলে যাচ্ছে বিভিন্ন হাট-বাজারে।

বিষাক্ত এসব কলা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কিনছেন ক্রেতারা। বড়দের পাশাপাশি বিশেষ করে শিশুরা এসব কলা খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে এসব অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল মিশ্রিত কলা প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে কেমিক্যাল দিয়ে কলা পাকানোর বিষয়টি সামনে আসে গত রোববার। ওই দিন চাটমোহর পুরাতন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম।

এ সময় পাশ দিয়ে একটি কাঁচা কলা ভর্তিভ্যান যাওয়ার সময় পিছু নেন তিনি। পরে মাছ বাজারের পাশে একটি টিনশেড ঘরের মধ্যে কেমিক্যাল দিয়ে কলা পাকানোর সময় হাতে-নাতে আবুল কাশেম নামে এক কলা ব্যবসায়ীকে আটক করেন এবং সরঞ্জাম জব্দ করেন।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং কেমিক্যাল মিশ্রিত কলাগুলো ধ্বংস করা হয়।

এ সময় ওই কলা ব্যবসায়ীকে কেমিক্যাল দিয়ে কলা পাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে উঠে আসে নানা তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে সবচেয়ে কাঁচা কলার আমদানি বেশি হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই গ্রাম থেকে কলা পাইকারি বিক্রি করা হয়। আর কাঁচা কলা নিজ উপজেলাসহ আশেপাশের উপজেলা থেকে সংগ্রহ করে থাকেন তারা। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কলা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসী ওই গ্রামের নাম দিয়েছেন ‘কলা পাড়া’।

এখানকার বেশিরভাগ ব্যবসায়ী কাঁচা কলা দেশের বেশিরভাগ জায়গায় পাইকারি বিক্রি করেন এবং নিজেরা কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক এবং বিভিন্ন ফল গাছে দেয়া কেমিক্যাল দিয়ে কলা পাকান। আর হাতবদল হয়ে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হয় এসব কলা।

শুধু মথুরাপুরেই নয়, উপজেলার বোঁথর, নিমাইচড়া, মির্জাপুর, হান্ডিয়াল, পার্শ্বডাঙ্গা, গুনাইগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি স্প্রে করে কলা পাকানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন অপকর্ম করে আসছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মথুরাপুর কলা পাড়া গ্রামের এবং বোঁথর গ্রামের দুই কলা ব্যবসায়ী জানান, কাঁচা কলা সংগ্রহের পর বদ্ধ ঘরে রেখে কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি ছিটানো হয়। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই কলাগুলো পেকে যায়। এতে বিক্রি করতেও সুবিধা হয়। বাজারে যে পরিমাণ কলার চাহিদা থাকে তাতে কেমিক্যাল মেশানোর প্রক্রিয়া ছাড়া কেউ ব্যবসা চালাতে পারবে না বলে জানান তারা।

জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. স ম বায়েজীদ-উল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, কেমিক্যাল মিশ্রিত কলা খাওয়া স্বাস্থ্যর জন্য খুব ক্ষতিকর। এর প্রভাব খুব খারাপভাবে পড়ে লিভার ও কিডনির ওপর। শরীরে নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। সুস্থ থাকতে হলে এগুলো বর্জন করা উচিত।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, না দেখলে বোঝার উপায় নেই কীভাবে কেমিক্যাল দিয়ে কলা পাকানো হয়। ইতিমধ্যে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং মুচলেকা নেয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষ যদি প্রশাসনকে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে তবে এগুলো বন্ধ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×