তবলিগের দু’গ্রুপের সংঘাতে যুবকের গায়ে আগুন, গ্রেফতার ২

  কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ২২ মে ২০১৯, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

আবদুর রহিম রাজন
আবদুর রহিম রাজন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আবদুর রহিম রাজন নামে এক যুবকের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান সুমন ও সোহেল মিয়া নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

আবদুর রহিম রাজন উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জালালপুর গ্রামের গোলাম মস্তোফার পুত্র। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার রাতে তারাবির নামাজ শেষে কটিয়াদীস্ত পূর্বপাড়া মহল্লার বাসায় ফেরার পথে সাড়ে ১০টার দিকে কটিয়াদী সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা যুবক রাজনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাজনরে মামা মামুনুর রশিদ নয়ন বাদী হয়ে সোমবার কটিয়াদী মডেল থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।

সোমবার রাতে তারাবির নামাজের পর মাহমুদুল হাসান সুমন ও সোহেল মিয়া নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অগ্নিদগ্ধ রাজনের মামা ও মামলার বাদী মামুনুর রশিদ নয়ন জানান, আমার ভাগ্নে আবদুর রহিম রাজন সা’দপন্থী তবলিগ জামাতের একজন সক্রিয় সাথী । কটিয়াদী বাজার দরগা জামে মসজিদে বেশকিছু দিন যাবৎ তবলিগ জামাতের সা’দ ও যোবায়েরপন্থীদের মাঝে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

কটিয়াদীতে যোবায়েরপন্থী জামাতের লোকজন প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে সবগোজারী করার জন্য দরগা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি বদরুল হুদা মাশুক সাহেবের নিকট হতে অনুমতি নিয়ে আসেন।

সা’দপন্থী জামাতের সমর্থকরাও সপ্তাহে একরাতে সবগোজারী করার জন্য সভাপতির নিকট অনুমতি চাইলে তিনি তাতে সম্মতি জানিয়ে বলেন, মসজিদ সবার, যে কেউ এই মসজিদে ইবাদত করতে পারবে। আমাদের সবগোজারী করার অনুমতির সংবাদ পেয়ে যোবায়েরপন্থীগণ মনক্ষুন্ন হন। এ অবস্থায় গত রোববার সকালে পাকুন্দিয়া থেকে তবলিগ জামাতের ২৪ সদস্যের একটি দল কটিয়াদী বাজার দরগা জামে মসজিদে আসেন। তাবলিগ জামাতের সদস্যদের সঙ্গে রাজন খেদমতের সাথী হয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিষয়টি মাহমুদুল হাসান সুমন, সোহেল, আরিফুল ইসলাম কলি ও তাদের অনুগতদের ভালো লাগছিল না।

ওই দিন বাদ জোহর তারা এসে বিষয়টি নিয়ে রাজনের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং মসজিদে আসা সদস্যদের চলে যাওয়ার তাগিদ দেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

ওই রাতে রাজন দরগা জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরার পথে কয়েকজন লোক এসে রাজনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় রাজন চিৎকার করে মাটিতে গড়াগড়ি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশে থাকা ড্রেনের ময়লা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়।

তাবলিগ জামাতের যোবায়েরপন্থী ৪ চিল্লার সাথী কাউছার আহম্মেদ জানান, সা’দপন্থী রাজন তার চাচার বাসা থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ সে মসজিদে ঝগড়া ফেসাদ সৃষ্টি করে আসছিল। কে বা কারা তার শরীরের আগুন ধরিয়ে দিয়েছে । এই মামলা গ্রেফতার হওয়া মাহমুদুল হাসান সুমন ও সোহেল মিয়া ভাল মানুষ। আমরা তার মুক্তি চাই।

কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তের স্বার্থে সব ঘটনা স্পষ্ট করা যাচ্ছে না। তবে গ্রেফতার হওয়া মাহমুদুল হাসান সুমন ও সোহেল মিয়া এজাহারভুক্ত আসামি। অপর এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলাম কলি ও অজ্ঞাতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×