বগুড়ায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাতে যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

  বগুড়া ব্যুরো ২৫ মে ২০১৯, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

যুবলীগের সাবেক নেতা মাকছুদুল আলম খোকন
যুবলীগের সাবেক নেতা মাকছুদুল আলম খোকন

জালিয়াতির মাধ্যমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় মাসফা এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার মাকছুদুল আলম খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সদর থানার এসআই সুমন কুমার শুক্রবার রাতে শহরের নামাজগড় এলাকার প্রত্যাশা হাউজিংয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।

শনিবার দুপুরে তাকে স্পেশাল জজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ অর্থ আত্মসাৎ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, এমএম ট্রেডিংয়ের মালিক আকতার হোসেন মামুন, রিমা ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জহুরুল হক মোমিন, নিলয় এন্টারপ্রাইজের মালিক এনামুল হক বাবু, মাসফা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাকছুদুল আলম খোকন, শুকরা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান আকন্দ, ব্যাংকের প্রথম সহকারি ভিপি আতিকুল কবির ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান এবং গ্রাহক ফেরদৌস আলম।

দুদকের স্পেশাল পিপি আবুল কালাম আজাদ জানান, ৯ আসামি (ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার) পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংকের ৩১ কোটির অধিক টাকা আত্মসাৎ করেন। এ মামলায় স্পেশাল জজ ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন।

সদর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে ওয়ারেন্টমূলে প্রায় ছয় কোটি আত্মাসাতের দায়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার মাকছুদুল আলম খোকনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার তাকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত খোকন শহরের বাদুড়তলা এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে ও জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা।

এর আগে অপর দুই আসামি শুকরা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান আকন্দ ও বরখাস্তকৃত ভাইস প্রেসিডেন্ট, শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম গত ২৬ এপ্রিল একই আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক এমরান হোসেন চৌধুরী নামঞ্জুর করেন। আবদুল মান্নান আকন্দ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেলেও ব্যাংকার রফিকুল ইসলাম এখনও জেলে আছেন।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ব্যাংকে ভুয়া হিসাব সৃষ্টি করেন। তারা গত ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ৩ নভেম্বরের ব্যাংকের ৩১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

ব্যাংকের তৎকালীন বগুড়া শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম গত ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর সদর থানায় মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। দুদকের সাবেক উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট উল্লিখিত ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। উচ্চ আদালত থেকে দুই ব্যবসায়ী ও দুই ব্যাংকার জামিন লাভ করেন।

গত ২২ জানুয়ারি বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ নরেশ চন্দ্র সরকার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন। পরে মামলাটির বিচার নিস্পত্তির জন্য স্পেশাল জজ আদালতে বদলি করা হয়।

স্পেশাল জজ এমরান হোসেন চৌধুরী সম্প্রতি ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন। এর কপি সদর থানায় প্রেরণ করা হয়। ৯ আসামির মধ্যে চারজন হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন, দুজন জেলে এবং আকতার হোসেন মামুন, জহুরুল হক মোমিন, এনামুল হক বাবু পলাতক রয়েছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×