সরকারি চাল নিয়ে পুলিশ-খাদ্য গুদামের টানাটানি

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ২০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

সরকারি চাল নিয়ে পুলিশ-খাদ্য গুদামের টানাটানি
সরকারি চাল নিয়ে পুলিশ-খাদ্য গুদামের টানাটানি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৮৪০ বস্তা সরকারি চাল আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে এসব চালের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও পুলিশ তা জব্দ করেছে বলে উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।

রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের উলিপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে ৮৪০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উলিপুর পৌরশহরে যানজট নিরসনে থানার ওসি ও পরিদর্শকের (তদন্ত) নেতৃত্বে পুলিশ বিশেষ টহল দিচ্ছিল। এ সময় ট্রাক ও ট্রলি বোঝাই দুটি গাড়ি উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৮৪০ বস্তা চাল নিয়ে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

পুলিশের টহলরত টিমের সন্দেহ হলে গাড়ি দুটিকে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের উলিপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পেট্রলপাম্প এলাকায় আটক করেন।

এ সময় ট্রাক ও ট্রলির ড্রাইভার-হেলপার পুলিশকে জানায়, ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফএর চাল দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাচ্ছে।

গাড়িভর্তি চাল সরকারি গুদাম থেকে বের হওয়ার কাগজপত্র পুলিশ দেখতে চাইলে তারা দেখাতে ব্যর্থ হন। তাদের আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের আটক করে চাল বোঝাই গাড়ি দুটি থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর থানার প্রতাপ কাঁঠালবাড়ী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র নজরুল ইসলাম (৩৫), বানচার ভিটাগ্রামের তমিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম (৫৫) ও উলিপুর থানার দূর্গাপুর বাজারের মোজাফফর হোসেনের পুত্র সাহাদৎ হোসেন সুমন (২২)।

উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম জানান, চালবোঝাই গাড়ি দুটির মধ্যে ট্রাক ও ট্রলি ছিল। এর মধ্যে ট্রাকের চালগুলো উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে কুড়িগ্রাম সরকারি গুদামে প্রোগ্রামের আওতায় যাচ্ছিল। ট্রলির চালগুলো ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফের ছিল। পুলিশ গাড়ি দুটি আটক করে থানায় নেয়। প্রোগ্রামের ঠিকাদারসহ থানায় গিয়ে ইনভয়েস (চালান) দেখানো হলেও পুলিশ চালের গাড়িগুলো ছাড়ছে না।

গাড়িতে চাল প্রেরণের কাগজপত্র ছিল না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৩৫ টনের প্রোগ্রাম হয়েছে। ইনভয়েসগুলো ঠিকাদাররা শেষে নিয়ে যান, সে কারণে গাড়িতে কাগজপত্র ছিল না।

উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সরকারি গুদাম থেকে চাল বের হলেই গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার কথা। ভিজিএফএর চাল হলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি গাড়ির সঙ্গে থাকার কথা কিন্তু কোনটি ছিল না। গাড়ি দুটি আটক করার সময় তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেই গাড়ি দুটিতে কাগজপত্র বা প্রতিনিধি ছিল না।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাদের যুগান্তরকে বলেন, চাল আটকের ঘটনা শুনে খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলেছি। এছাড়া ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ট্রলির চালগুলো ভিজিএফএর ছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×