ওসির মানবিকতায় স্বজন ফিরে পেল কুড়িয়ে পাওয়া শিশু

  পাবনা প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ও শিশু জুনায়েদ
পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ও শিশু জুনায়েদ

পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কুড়িয়ে পাওয়া এক শিশুকে পরম মমতায় কাছে নিয়ে রাখলেন পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক। তার জন্য করেছেন ঈদ বাজার।

গত ১ সপ্তাহের বেশ হাসি-খুশিতেই কেটেছে শিশু জুনায়েদের (৭)। অবশেষে সন্ধানও মিলেছে তার বাবা- মার।

রোববার দুপুরে জুনায়েদ থানার ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যদের কাঁদিয়ে তার স্বজনের কাছে ফিরে যায়।

পাবনা সদর ওসি কর্মকর্তা ওবাইদুল হক জানান, সপ্তাহ খানেক আগে এক রাতে টহলরত অবস্থায় তিনিসহ অন্যরা বাস টার্মিনালে ভবঘুরে শিশু জুনায়েদকে কুড়িয়ে পান। অভূক্ত আর মলিন চেহারা, তবে মায়াবি। সে শুধু তার নাম বলতে পারছিল। আর কোনো ঠিকানাই বলতে পারছিল না। এমনকি বাবা-মায়ের নামও না। হৃদয় ছুঁয়ে যায় ওসি ওবাইদুলের।

তিনি শিশুটিকে নিয়ে রাখেন পাবনা সদর থানার হেফাজতে। ওসির সঙ্গে বেশ খাতির জমে ওঠে জুনায়েদের । ঈদ সামনে আসায় তার জন্য জামা-জুতা, খেলনা সব কিনে দেয়া হয়। এমনকি তার পছন্দমত খাবারও বিভিন্ন সময় কিনে খাওয়ানো হয়। তাকে হাসি খুশি রাখতে ওসিসহ অন্যরা চেষ্টা করেন।

ওসি তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সেলফিও তুলেন। সেটি ফেসবুকে আপলোড করেন। এতেই বাজিমাত। তার পরিচয় পাওয়া যায়। ছবি দেখে তার স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।

ওসি বলেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানায় প্রথম যোগাযোগ করেন তার স্বজনরা। তাদের মাধ্যমে শিশুটির স্বজনরা শনিবার রাতে কথা বলেন আমার সঙ্গে।

পাবনা সদর থানার ওসি শিশুটির স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, জুনায়েদের বাবা সুমন মিয়া (৪০) শ্রমিক। তার স্ত্রী (জুনায়েদের মা) কয়েক বছর হলো দেশের বাইরে কাজে গেছেন। আর বাবা মো. সুমন মিয়া কিছুটা হাবাগোবা টাইপের। এতে শিশুটি বাড়ি থেকে সবার অজান্তে হারিয়ে যায়। গত তিন মাস ধরে সে নিখোঁজ ছিল। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেটেছে তার ভবঘুরে জীবন। অবশেষে পাবনা সদর থানার ওসি তাকে ঠাঁই দিয়েছিলেন।

পাবনা সদর থানার ওসি জানান, পিতৃস্নেহ দিয়েই তাকে আগলে রেখেছিলাম। এরই মধ্যে থানার কর্মকর্তাসহ সবার সঙ্গে জুনায়েদের সখ্য গড়ে ওঠে।

রোববার বাবা সুমন মিয়া এবং অন্য স্বজনরা পাবনা থানায় এসে প্রমাণসহ জুনায়েদকে নিয়ে যায়। এ সময় থানায় এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা হয়। সবাই জুনায়েদকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানায়।

ওসি বলেন, এখন তার স্বজনদের খোঁজ মেলায় আমি আনন্দিত। তার প্রতি একটা মায়ার বাঁধনও জন্ম নিয়েছে এরই মধ্যে। এজন্য তাকে ছাড়তে কষ্টও হচ্ছে। তবে সান্ত্বনা পাচ্ছি শিশুটি তার স্বজনদের কোলে ফিরে যেতে পারছে। সে ভাল থাকলেই ভাল লাগবে আমার।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×