ঈদে টঙ্গী-জয়দেবপুর চৌরাস্তার ১২ কিলোমিটারে চরম ভোগান্তি

  গাজীপুর প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ২১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা

শত প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টার পরও পবিত্র ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক পথ।

এ সড়কে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় চার লেনের এ মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে এক লেন বা দুই লেন হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদ উপলক্ষে ওই চলমান কাজ বন্ধসহ এ ১২ কিলোমিটার পথ সচল রাখতে প্রশাসনের নানা পদক্ষেপের পরও সড়কে বৃষ্টির পানি জমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার ভোর থেকেই গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর কুনিয়া থেকে বড়বাড়ি-বোর্ডবাজার-সাইনবোর্ড-ভোগড়া বাইপাস-চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যাত্রীরা যানজটের কবলে পড়েন।

এদিকে মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও বোর্ড বাজার অংশে ৪ কিলোমিটার সড়কের পাশে কোনো ড্রেন নেই। একটু বৃষ্টি হলে পানি রাস্তা গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক সাউথ) থোয়াই অংপ্রু মারমা জানান, বৃষ্টির কারণে সকালে বোর্ডবাজারের সাইন বোর্ড এলাকায় মহাসড়কে পানি জমার কারণে জ্যামের সৃষ্টি হয় এবং দুপুরের মধ্যে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, যানজটপ্রবণ টঙ্গী থেকে চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা পর্যন্ত মহাসড়ককে যানজট মুক্ত রাখতে সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আশা করছি ঘরমুখো মানুষ এ এলাকা নির্বিঘ্নে অতিক্রম করতে পারবে।

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশে সম্ভাব্য দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২৪ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সড়ক ও জনপথ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও বিআরটি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিআরটি প্রকল্পের যে কাজ ২০১৭ সালে শুরু হয়েছে গত দুই বছরেও বিআরটি কর্তৃপক্ষ এক কিলোমিটার সড়কও দৃশ্যমান করতে পারেনি। জনগণের মধ্যে এ প্রকল্পের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিনি ওই প্রকল্পের ২০ কিলোমটার সড়কের অন্তত এক কিলোমিটার সড়ক তৈরি করে জনগণের কাছে তা দৃশ্যমান করার জন্য বিআরটি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

এ সময় বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সানাউল হক জানান, এক বছরে বিআরটি এর কাজ ২০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের কাজ বিদেশি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করছে। তারা এ দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে কাজ করে অভ্যস্ত নয়।

তিনি আরও জানান, রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে এলাকার ও বিভিন্ন কলকারখানার পানি সড়ক দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। আর পানির কারণে রাস্তাও নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও বোর্ড বাজার অংশে ৪ কিলোমিটার সড়কের পাশে কোনো ড্রেন নেই। বৃষ্টি হলে পানি রাস্তায় গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার ট্রাফিক (নর্থ) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত গাজীপুরের মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাইরে থেকে ২০০ এপিবিএন সদস্য আনা হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক সেবা, জিএপি নামে একটি গ্রুপ পেজে অন্তর্ভুক্ত হয়ে অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের দিকে ২৭টি রোডের যানবাহন গাজীপুর চৌরাস্তার উপর দিয়ে যাতায়ত করে থাকে। এর মধ্যে যানজটপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা এলাকায় এবারের ঈদে কোনো যানজট থাকছে না। এ দুটি স্থানে দুটি ফ্লাইওভার এবং দুটি ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। কোনাবাড়ির যানজটের ২ ঘণ্টার পথ এখন পার হওয়া যাচ্ছে মাত্র তিন মিনিটে।

চন্দ্রা এলাকায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো ফ্লাইওভার দিয়ে দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে গন্তব্যের দিকে। তাই এবারের ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের জন্য দুটি ফ্লাইওভার যানজটের কবল থেকে রক্ষা করেছে। আর শঙ্কার কারণ হচ্ছে কেবল টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×