ভৈরবে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গণধোলাই

  ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ২২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক
ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় ভৈরবের সম্ভুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গণধোলাইয়ের শিকার ওই পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক।

ওই শিক্ষার্থীর নাম সজীব আহমেদ (১৭) এবং তার বাবার নাম সাব মিয়া। বাড়ী উপজেলার সম্ভুপুর এলাকায়। তার বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রী। শিক্ষার্থী সজীব সম্ভুপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র।

রাতে ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই অফিসারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ সজীবের বাবাসহ ৬ জন সাধারণ নাগরিগকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, মদের বোতল দিয়ে শিক্ষার্থীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে দুই পুলিশ অফিসার। তবে দুই পুলিশ অফিসার গণধোলাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় অসংখ্য লোকজনের দাবী মাদক দিয়ে ছাত্রকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে।

সজীবের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী জানায়, মোটরসাইকেল চড়ে সজীব দুই বন্ধুকে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যার পর ভৈরব বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে যায়। বাসায় ফেরার পথে শহরের চান্দ ভাণ্ডারের কাছে তারা পৌঁছলে পোশাকবিহীন ওই দুই পুলিশ অফিসার খায়ের ও আজিজুল ইশারা দিয়ে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

এ সময় তাদের শরীরে পুলিশের কোনো পোশাক ছিল না বলে জানায় সজীব। এরপর দুই পুলিশ তাদের বলে, তোদের কাছে মদ আছে। পুলিশের কথায় ভয় পেয়ে সজীবের দুই বন্ধু একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেলেও সজীব আটকে যায়।

এসময় এসআই খায়ের সজীবকে বলেন, তোর থানায় যেতে হবে এবং সজীবের মোটরসাইকেলে এসআই আজিজুলকে পিছনে তুলে দেন। এ সময় সজীব এসআই আজিজুলকে নিয়ে দ্রুত তার বাড়ি সম্ভুপুরের দিকে চলে যেতে থাকেন। এসআই খায়ের ঘটনা দেখে তার মোটরসাইকেল নিয়ে সজীবের পেছনে ছুটতে থাকেন।

সম্ভুপুর এলাকায় পৌঁছে সজীব তার মোটরসাইকেল ফেলে দৌঁড়ে বাসায় গিয়ে ঘটনাটি খুলে বলেন। তার বাবা ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে এসে লোকজনকে ঘটনাটি অবহিত করলে জনতা দুই পুলিশকে ধরে গণধোলাই দেয়।

এসময় এলাকার কিছু মুরুব্বিরা জনতার হাত থেকে দুই পুলিশকে উদ্ধার করে আটকে রাখেন। তারপর ভৈরব থানায় খবর দিলে অন্যান্য পুলিশ অফিসাররা রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থল থেকে দুই এসআইকে উদ্ধার করেন।

সজীবের বাবা সাব মিয়া এই প্রতিনিধিকে জানান, আমার ছেলে মাদক সেবন কখনও করে না। পুলিশ আমার ছেলে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছিল। তাই সে কৌশলে পালিয়ে এসে বেঁচে যায়। পুলিশের পোশাক না থাকায় তারা দুজনকে সন্দেহ করছিল।

এলাকার বোরহান মিয়া জানান, আমিসহ কয়েকজন পুলিশকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করি। তা না হলে পুলিশের অবস্থা আরও খারাপ হতো।

তিনি বলেন, সজীব ছেলেটি কখনও নেশা করতে দেখেনি এবং মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। ভাল ছেলেকে পুলিশ মাদক দিয়ে ফাঁসাতে চেয়ে তারা নিজেরাই ফেঁসে গেছে।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ এসআই খায়ের ও আজিজুল হক জানান, সজীবের হাতে মদের বোতল ছিল। তাই তাকে আটক করেছিলাম। মাদক দিয়ে ফাঁসানোর কথা দুজনই অস্বীকার করেন।

ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, সজীবের হাতে মদ থাকায় পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার সময় সজীবসহ তিন বন্ধু পালিয়ে যায়। এ সময় সজীব এসআই আজিজুলকে মোটরসাইকেলে নিয়েই পালিয়ে যেতে চাইলে খায়ের পেছনে ছুটে যায়।

পুলিশকে গণধোলাই দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি বলেন, ঘটনার সময় সজীবের বাবাসহ ৬ জনকে আটক করলেও পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে তাদেরকে সন্ধ্যায় ছেড়ে দিয়েছি। আমরা পুলিশ এসল্ট মামলা করতে পারতাম কিন্তু ঘটনাটি বাড়াবাড়ি না করে মীমাংসা করেছি।

ভৈরব সার্কেলের এএসপি মো. রেজোয়ান দীপু জানান, আমি ঘটনা শুনে জনতার সঙ্গে বাড়াবাড়ি না করে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছি। পুলিশ ও সজীবের পরিবারসহ ভুল বুঝাবুঝির অবসান করেছি। আমি চাই, এনিয়ে আর কেউ যেন বাড়াবাড়ি না করে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×