পটুয়াখালীতে ৫ শতাধিক মোটরসাইকেলে ভিপি নূরকে বরণ!

  বিলাস দাস, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ২২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

চেয়ারম্যান মো. রাজা মিয়ার সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনায় ভিপি নূরুল হক নূরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ
চেয়ারম্যান মো. রাজা মিয়ার সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনায় ভিপি নূরুল হক নূরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী সাগরকন্যা পটুয়াখালী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই দেশের অনেক প্রখ্যাত মানুষের জন্ম। হয়তো যারা আজ সকারের উচ্চপদস্থ পদে কর্মরত রয়েছেন।

কেউ জনপ্রনিধি, কেউ দানশীল নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। যাদের কৃতকর্মের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছে এই জেলাটি। কিন্তু আজকের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।

এক তরুণ যুবককে এক নজর দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে অজপাড়া গাঁয়ে। তাও আবার জন্মভূমিতে। যে গায়ের লবণাক্ত কাদামাটি শরীরে মেখে বড় হয়েছে ‘নূর’। নূর হিসেবেই নিজ গ্রামে তার পরিচিতি।

রোববার সেই গ্রামের মানুষের প্রেমে শতভাগ সিক্ত হলেন সদ্য নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি নূরুল হক নূর।

নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারে মত নিজ জন্মভূমিতে আসলেন নূর। পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরবিশ্বাস গ্রামে তার জন্ম। ঢাকা থেকে লঞ্চ যোগে রোববার সকালে নিজ গ্রামে পৌঁছান।

নূর আসবে এমন খবর শুনে এলাকাবাসীরা মিলে তাকে গণসংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করেন। যদিও এর আগের দিন রাতে নূরের আগমনকে কেন্দ্র করে গলাচিপায় এক অশনি সংকেত বেজে উঠেছিল। কিন্তু নিজ গায়ের মানুষের ভালবাসায় সে সংকেত তাকে ছুঁয়ে যেতে পারেনি।

কাকডাকা ভোরেই ৫ শতাধিক মোটরসাইকেল চরকাজল লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছায়। আর তাকে বরণ করে নিতে লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষা চলে নানা বয়সী মানুষের। লঞ্চ ঘাটে পৌঁছামাত্র নূরকে মেতে ওঠে শ্লোগান। মনে হলো- কোনো প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তির পদচারনা ঘটেছে এই ভূমিতে। কাঠফাটা রৌদ্রেও মানুষের উপস্থিতি কম ছিল না। ৫ শতাধিক মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে লঞ্চ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নিজ গ্রামে।

ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রাজা মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজন করা হয় গণসংবর্ধনার। এক এক করে সবাই ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ নেন নূরকে। কেউ আবেগ আপ্লুত হয়ে বুকেও জড়িয়ে নেয়।

আয়োজিত সংবর্ধনায় স্থানীয় জনসাধারনের উদ্দেশে নূর বলেন, মানুষদের জাগতে হবে, বৈষম্য নিয়ে কথা বলতে হবে। কারণ সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে আওয়ামী লীগ-বিএনপির তথা কোনো দলেরই কোনো হ্যাডাম থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজারে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষক এখন কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে চাচ্ছে, কেউবা অন্য পেশায় ওপর নির্ভর হচ্ছে। কৃষকের পাশে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কেউ দাড়াচ্ছে না। অথচ এই অঞ্চল তথা সাগর উপকুলীয় জেলা কৃষি এবং মৎস্য সম্পদে আখ্যায়িত হয়েছে।

নূরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, জীবনে প্রথমবার চরঞ্চলে অগনিত মানুষ তাদের নিজ উদ্যোগে কোনো তরুন যুবককে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেছে। যা এই অজপাড়া গায়ে আগে কখনো ঘটেনি। তাই তিনি আজ অনেক আনন্দিত এবং গর্বিত।

তিনি আরো বলেন, এবার ঈদ উৎসব তার ছেলে নূরের সঙ্গেই কাটাবে এবং গোটা গ্রামে এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×