যুবলীগ নেত্রীকে হুমকি দিয়ে পদ গেল ‘বিতর্কিত’ ছাত্রলীগ নেতার

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৩ জুন ২০১৯, ০৪:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

যুবলীগ নেত্রী নাজমা বেগম (বামে) ও বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন
যুবলীগ নেত্রী নাজমা বেগম (বামে) ও বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন। ফাইল ছবি

খুলনার কয়রা থানা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও এস এম সোহেল রানাকে (সৌরভ) সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার রাত ৯টার দিকে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে কয়রা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে ‘নুসরাতের মতো পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয়া’র অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার প্রতাপনগর ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড যুবলীগ নেত্রী নাজমা বেগম।

জানা যায়, আল আমিনের মামাদের সঙ্গে নাজমার পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বুধবার নাজমার বাড়িতে গিয়ে এ হুমকি দেয় আল আমিন। ফলে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গত শুক্রবার (৩১ মে) খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নাজমা।

এসময় লিখিত বক্তব্যে আল আমিনের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ, নিজের ভাইকে দিয়ে সুন্দরবনে ডাকাত দল পরিচালনা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করে বাড়ি ছাড়া করা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

নাজমা জানান, তাকে হুমকি দিয়ে আল আমিন বলেন, তোকে নুসরাতের ( ফেনীর সোনাগাজিতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা) মতো করে পুড়িয়ে মারবো। তোর কোন বাপ আছে ঠেকাতে বলিস। নুসরাতকে তো আগুন লাগানোর আগে হত্যা করেনি, তোকে আগে টুকরো টুকরো করে তার পর আগুনে পোড়াবো। পরে তোর লাশের ছাইও পাওয়া যাবে না, গুম করে দেব।

আল আমিনের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে নাজমা বলেন, আল আমিন ২০০৮ সাল পর্যন্ত কয়রা সুন্দরবন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিল। তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে প্রায় সবাই বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। অনুপ্রবেশ করে একমাত্র আল আমিন একটি পদ পায়।

নাজমার মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন চিহ্নিত জামায়াত কর্মী, ছোট মামা ৩ নং আসামি ফারুক হোসেন বিএল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও মামাত ভাই ৬ নং আসামি আল আমিন শিবির কর্মী ও সাঈদি মুক্তি পরিষদের গোকুলনগর গ্রামের সভাপতি।

নাজমা খাতুন বলেন, অন্যদিকে জামায়াত অধ্যুষিত এলাকার মধ্যেও আমার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি নিজে মহিলা যুবলীগের রাজনীতি করি, আমার আপন দেবর আছাদুল ইসলাম যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন (বর্তমানে ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন), আমার ছোট দেবর পলাশ মাহমুদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। পরে ঢাকার মহানগর ল’ কলেজে আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। আমার ননদ ফিরোজা বেগম (সালমা) সাতক্ষীরা সদরের বকচরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক, ননদের স্বামী আব্দুল ওহাব আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সহ-সভাপতি, আমার মামাশ্বশুর কেরামত আলী গাজী কয়রা থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।

নাজমা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ নেতা আল আমিনের মেজ ভাই আব্দুস সালাম বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিরুদ্দেশ। তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে সুন্দরবনে ডাকাত দল আকরাম বাহিনীর সদস্য ছিলেন। বর্তমান সরকার ডাকাত নির্মূল শুরু করলে আল আমিন ভাইকে রক্ষা করতেই ছাত্রলীগে যোগ দেয়। পরবর্তীতে আল আমিনের প্রভাবে আব্দুস সালাম আবারও ‘সালাম বাহিনী’ নামে ডাকাত দল গঠন করে সুন্দরবনে ডাকাতি করছে।

এছাড়া ইতিপূর্বেও আল আমিনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তারই এলাকার ৫টি সংখ্যালঘু পরিবার। সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে এক প্রকার দেশছাড়া করা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল যে বাড়িতে সেই বাড়িওয়ালার ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ করে কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩নং কয়রা গ্রামের প্রভাষ চন্দ্র সরদার।

২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল কয়রা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রভাষ চন্দ্র সরদার, কৃষ্ণপদ মন্ডল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সঞ্জয় কুমার বৈদ্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপুল বাছাড় আল আমিনের বিরুদ্ধে মাছের ঘেরের জন্য চাঁদা দাবি, ঘের দখল, জমির ধান লুট করে নেয়া, নির্যাতন করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকিসহ নানা অভিযোগ করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯নং সেক্টরের নারায়ণ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ছিল প্রভাষ চন্দ্র সরদারের বাড়িতেই।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক আল আমিন বলেন, তিন বছর আমি নাজমাদের বাড়িতে যাইনি। জমিজমা নিয়ে মামা খালাদের মধ্যে সমস্যা আছে। সেখানে আমার যাওয়ার কোনো বিষয় নেই। নাজমা সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছে তা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের খুলনা জেলা সভাপতি পারভেজ হাওলাদার বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়। কিন্তু কয়রা থানা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নতুন কমিটি ঘোষণা করেছি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×