অভাবের তাড়নায় সেই জাহালম এখন রাতের রিকশাচালক

  পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি ০৩ জুন ২০১৯, ১৪:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

অভাবের তাড়নায় সেই জাহালম এখন রাতের রিকশাচালক
বিনা অপরাধে দুদকের মামলায় তিন বছর কারাভোগের পর রিকশাচালক জাহালম। ছবি: যুগান্তর

বিনা অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিন বছর কারাভোগের পর অভাবের তাড়নায় রাতের আঁধারে রিকশা চালিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন সেই জাহালম। চাকরি ফিরে পেলেও এবারের ঈদে মিল থেকে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি পেয়েছেন তিনি। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন জাহালম।

নরসিংদীর পলাশ শিল্প এলাকার বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোড়াশালস্থ বাংলাদেশ জুটমিল শ্রমিক জাহালম এখন গোপনে রাতে পৌর এলাকার অলিগলিতে রিকশা চালান।

জাহালম যুগান্তরকে জানান, তিন বছর বিনাদোষে কারাভোগ করে শুধু শরীর নয়, মানসিকভাবেও অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। কোর্টের নির্দেশে বিজেএমসির চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় এক মাস আগে চাকরি ফিরে পেয়েছেন। এবারের ঈদে মিল কর্তৃপক্ষ ১২ সপ্তাহ মজুরির মধ্যে সাত সপ্তাহ মজুরিসহ ঈদ বোনাস শ্রমিকদের প্রদান করলে আমার বকেয়া সপ্তাহে কোনো কাজ না থাকায় মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি পাই।

আর কাজে উপস্থিত না থাকার কারণে ঈদ বোনাসও পাইনি। মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়ায় এখন আমি দিশাহারা হয়ে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী চাঁদনীর (৮) জন্য একটা ঈদের নতুন জামাও কিনতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে লোকলজ্জার কারণে দিনের বেলায় না চালিয়ে রাতের বেলায় ঘোড়াশাল পৌর এলাকার অলিগলিতে রিকশা চালিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি।

জাহালম কান্নাজরিত কণ্ঠে আরও বলেন, অতিকষ্ট করলেও এবার শান্তিতে আমার সন্তান ও পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখের ঈদ করব। গত তিনটি বছর আমার পরিবার আমাকে ছাড়া ঈদ করেছে এটা যে কতটা কষ্টের তা আমিই জানি।

তিনি বলেন, গত তিনটি বছর আমার স্ত্রী কল্পনা বেগম আমার অনুপস্থিতিতে সংসার চালানোর জন্য ঘোড়াশালস্থ প্রাণ ফুড ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন। তার বেতন দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাত। তবে মামলা চালাতে গিয়ে তারা সহায়সম্বল সবই হারিয়েছে। আমি এখন পথের ভিখারি হয়ে গেছি।

তবে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলা তিনটি বছরের জন্য আমি ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। মানসিক ও শারীরিক সুস্থিরতা ফিরে পাওয়ার জন্য তার দীর্ঘ সুচিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

জাহালম টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার ধুবুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জুট মিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক। সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৩টি মামলা করে জাহালমের বিরুদ্ধে দুদক।

তদন্ত কর্মকর্তার ভুলে অভিযুক্ত আবু সালেক নামের ব্যক্তির পরিবর্তে তিন বছর কারাভোগ করেন পাটকল শ্রমিক জাহালম। গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ৩ ফেব্রুয়ারি সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই দিনই জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে সেদিনই আদেশের কয়েক ঘণ্টা পরই কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও সন্তান, মা-বাবা ও পরিবারের জন্য এখন জাহালম জীবনযুদ্ধে নেমেছে। তাই সংসারে সবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য মিলের কাজের পাশাপাশি রাতের বেলায় রিকশা চালিয়ে বাড়তি উপার্জনের পথ খুঁজছেন জাহালম।

ঘটনাপ্রবাহ : ভুল আসামি জাহালম

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×