‘খাওন যোগাইতে জান শেষ, নতুন জামা কিনমু ক্যামনে’

  বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি ০৫ জুন ২০১৯, ১১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বেড়িবাঁধে বাস করা আনন্দবঞ্চিত শিশুরা
বেড়িবাঁধে বাস করা আনন্দবঞ্চিত শিশুরা

বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসননগর,পক্ষিয়া ও বড়মানিকা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর বেড়িবাঁধে বাস করা প্রায় তিন হাজার ছিন্নমূল পরিবারে ঈদ আনন্দের ছোঁয়া নেই।

যদিও ওই এলাকা থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরবর্তী বোরহানউদ্দিন পৌর শহরের বিপণী বিতানগুলোয় উপচেপড়া ভিড় দেখলে মনে হয় না ছিন্নমূল পরিবারগুলো নিজেদের জন্য দূরে থাক সন্তানদের জন্য একটা নতুন কিনার সামর্থ নেই। ওই পরিবারগুলো অধিকাংশই জেলে পরিবার। অল্প কিছু সংখ্যক আছেন বর্গাচাষী।

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এপ্রিল শেষে নদীতে পূর্ন উদ্যমে মাছ শিকারে গিয়ে প্রতিদিন ফিরছেন শূন্য হাতে। নদীতে ইলিশসহ অন্য প্রজাতির মাছের দেখা নেই। ফলে অভাব তাদের পিছু ছাড়ছে না।

কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার থাকলেও পরিবারের কর্তার চাহিদা পূরণের টাকা নেই।

হাসাননগর ইউনিয়নের মেঘনা সংলগ্ন বেড়িবাঁধে বাস করা ১০-১২ বয়সের আতিক, শাকিব ও মিরাজের বাবা আ. মান্নান জানান, ৩০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে নৌকা নামিয়েছেন। সারা দিন-রাত খেটে সংসারের খাবার খরচের মাছও জোটে না। মন চাইলেও সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় দেয়া সম্ভব না।

একই এলাকার তামিম, সুমাইয়ার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রেতা শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, ভাত খাইতেই তিন দায়, আবার নতুন জামা!

পার্শ্ববর্তী মারুফ, সজিবের বাবা সিদ্দিক, জুনায়েদ ও মিতুর বাবা আলমগীর, রাসেল, তামান্নার বাবা মো. হারুন বলেন, ‘ছোড (ছোট) পোলাপানগুলি নতুন জামা চাইয়া ত্যাক্ত (বিরক্ত) করে। খাওন (খাবার) জোগার করতেই পারি না, জামা দিমু ক্যামনে।’

একটু ক্ষোভের সঙ্গে তারা বলেন, ‘ঈদ আমাগো লইগ্যা (জন্য) না, যারা দালানে থাহে (বাস করে) তাগো লইগ্যা ঈদ।’

পক্ষিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের মিজান, আ. সাত্তার, ফিরোজ মিয়া, শাহে আলম, নূরনবী, শেখ ফরিদ বলেন, ‘এতা কষ্ট কইর্যাা (করে) নদীতে যাই। মাছের দেহা (দেখা) নাই। ভাত যোগার করতেই জান শেষ। নতুন জামা-কাপড় আমাগো পোলাপাইনের (ছেলে-মেয়েদের) কপালে ল্যাহে (লিখে) নাই।’

বড়মানিকা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাসিন্দা ইশরাফিল ও হালিমা বেগম জানান, ‘ঈদ করমু ক্যামনে, নদীতে মাছ নাই। এ্যাহন (এখন) ভাত কাপড়ের লইগ্যা শরীলে (শরীরে) কুলায়না (সহ্য হয়না) হ্যাও (তাও) ব্লকের (ব্লক বাঁধের) কাজ করি। ঈদ আর পেলাপাইনের কথা মনে আইলে কষ্ট বাইর্যাগ (বেড়ে) যায়।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×