শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা, ২ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

  ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৫ জুন ২০১৯, ১২:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক
ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনায় ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করেছে জেলা পুলিশ সুপার।

মঙ্গলবার সকালে দুজনকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক।

বিষয়টি মোবাইলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

শনিবার রাতে ভৈরবের শিক্ষার্থী সজীব আহমেদকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এই শিক্ষার্থী স্থানীয় সম্ভুপুর টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র। তার বাবার নাম সাব মিয়া এবং বাড়ি ভৈরবের সম্ভুপুর এলাকায়।

ঘটনার দিন ওই শিক্ষার্থী দুই বন্ধুসহ ভৈরব বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় যাওয়ার পথে শহরের বঙ্গবন্ধু রোডে দুই পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় সজীবের দুইবন্ধু পালিয়ে গেলেও তাকে মাদকের কথা বলে থানায় যেতে বলে। তারপর সে এসআই আজিজুলকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে থানার কথা বলে সম্ভুপুর চলে যায়।

ঘটনা দেখে এস আই আবুল খায়ের সজীবের পিছনে মটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছে। এরপর সজীব এলাকায় গিয়ে মটরসাইকেল ফেলে দিয়ে দৌঁড়ে বাসায় গিয়ে তার বাবাকে ঘটনাটি জানায়। তার বাবা ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানালে জনতা দুজনকে গণধোলাই দেয়।

ঘটনার সময় দুই পুলিশের পোষাক ছিল না বলে জানায় এলাকাবাসী। এই ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি টিম সম্ভুপুর থেকে দুই পুলিশকে উদ্ধারসহ ৬ জন সাধারণ মানুষকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মীমাংসা করে আটককৃত সজীবের বাবাসহ ৬ জনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ খবর যুগান্তরসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

সোমবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনা তদন্ত করতে ভৈরবে আসেন। তিনি অভিযোগকারী, অভিযুক্ত পুলিশদ্বয়, থানার ওসি, এলাকাবাসী, প্রতক্ষ্যদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনাটি আংশিক সত্য বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

তদন্ত শেষে সোমবার রাতে পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি অবহিত করলে মঙ্গলবার সকালে দুই পুলিশ অফিসারকে ক্লোজড করা হয়।

ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, তদন্তের ব্যাপারটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান বলতে পারবেন। তবে দুইজনকে প্রত্যাহারের কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×