নবদম্পতির মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি!
jugantor
নবদম্পতির মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি!

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  

০৮ জুন ২০১৯, ২১:৪১:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবুর বিরুদ্ধে নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শনিবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহম্মেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মীর মাসুদুর রহমান ফরদাবাদ গ্রাম থেকে স্ত্রী সামিনূর নাহার ও শ্যালিকা রাশমি আক্তারকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পূর্বহাটি থেকে ভুরভুরিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

কিছু দূর যেতেই ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকার রাস্তায় ৮-১০ জন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু তাদের পথরোধ করেন।

এক পর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই অটোরিকশা থেকে মীর মাসুদুর রহমানকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার অনুসারীরা। সেই সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী সামিনূর নাহারকেও মারধর করেন তারা। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা রাশমি আক্তারকে মারধর করেন ছাত্রলীগের সভাপতি বাবু ও তার অনুসারীরা।

তারা সামিনূর নাহারের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ফরদাবাদ বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের পূর্বহাটি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়েজামাতা মীর মাসুদুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ওয়াই সেতু যাওয়ার পথে ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর নূর মোহাম্মদসহ ৮-১০ জনজন ছেলে আমার নাম জিজ্ঞেস করে। নাম বলার পর আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। পরে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে মারধর শুরু করেন।

তিনি বলেন, কেন আমাদের ওপর হামলা করেছে, বুঝতেই পারছি না।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আজিজ জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নব দম্পতিকে মারধর করে তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। দলীয়ভাবে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে উপজেলা সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দিব।

এবিষয়ে ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু বলেন, ওই ছেলেটার (মীর মাসুদুর রহমান) সঙ্গে এলাকার কিছু ছেলের পূর্বের ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমার বিরুদ্ধে তার এবং তার স্ত্রীর চেইন ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা সঠিক না।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। জেলা সভাপতির নির্দেশে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে ছাত্রলীগ নেতার বিরদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও চেন ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে কেউ যদি অভিযোগ করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবদম্পতির মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি!

 বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
০৮ জুন ২০১৯, ০৯:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু
ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবুর বিরুদ্ধে নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শনিবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহম্মেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মীর মাসুদুর রহমান ফরদাবাদ গ্রাম থেকে স্ত্রী সামিনূর নাহার ও শ্যালিকা রাশমি আক্তারকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পূর্বহাটি থেকে ভুরভুরিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। 

কিছু দূর যেতেই ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকার  রাস্তায় ৮-১০ জন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু তাদের পথরোধ করেন।

এক পর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই অটোরিকশা থেকে মীর মাসুদুর রহমানকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার অনুসারীরা। সেই সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী সামিনূর নাহারকেও মারধর করেন তারা। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা রাশমি আক্তারকে মারধর করেন ছাত্রলীগের সভাপতি বাবু ও তার অনুসারীরা।

তারা সামিনূর নাহারের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ফরদাবাদ বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের পূর্বহাটি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়েজামাতা মীর মাসুদুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ওয়াই সেতু যাওয়ার পথে ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর নূর মোহাম্মদসহ ৮-১০ জনজন ছেলে আমার নাম জিজ্ঞেস করে। নাম বলার পর আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। পরে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে মারধর শুরু করেন।

তিনি বলেন, কেন আমাদের ওপর হামলা করেছে, বুঝতেই পারছি না।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আজিজ জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নব দম্পতিকে মারধর করে তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। দলীয়ভাবে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে উপজেলা সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দিব।

এবিষয়ে ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু বলেন, ওই ছেলেটার (মীর মাসুদুর রহমান) সঙ্গে এলাকার কিছু ছেলের পূর্বের ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমার বিরুদ্ধে তার এবং তার স্ত্রীর চেইন ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা সঠিক না।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। জেলা সভাপতির নির্দেশে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে ছাত্রলীগ নেতার বিরদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও চেন ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে কেউ যদি অভিযোগ করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন