খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা

  খুলনা ব্যুরো ১০ জুন ২০১৯, ০১:১১:০০ | অনলাইন সংস্করণ

খুলনা ম্যাপ

খুলনার কয়রা উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহারাজপুর ইউনিয়নের সুতির অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে সুতির অফিস এলাকায় যান সাংগঠনিক মিটিং করার জন্য। মিটিং চলাকালে ওই এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা করে।

এতে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বী, রাসেল, আব্দুল্লাহ, মাদানী ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ওয়াহিদ মেম্বরসহ ১০/১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় এক ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহ ও মাদানীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগ সভাপতি আরও জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিনের বাড়ি ওই এলাকায়। এ হামলার ঘটনায় আল আমিনের ভাই রুহুল আমিন ও কালাম সরাসরি নেতৃত্ব দেয়।

কয়রা থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি ওই এলাকায় সাংগঠনিক প্রোগ্রাম করছিলেন। তখন উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিনের ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকজনের বাদানুবাদ হয়। এর জেরে হাতাহাতি হয়। তবে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে আল আমিনের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে গত ৩১ মে আল আমিনের বিরুদ্ধে ‘নুসরাতের মতো পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয়া’র অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগ নেত্রী নাজমা বেগম।

এরপর ২ জুন আল আমিনের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমা অভিযোগ করেছিলেন, তাকে হুমকি দিয়ে আল আমিন বলেন, তোকে নুসরাতের ( ফেনীর সোনাগাজিতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা) মতো করে পুড়িয়ে মারব। তোর কোন বাপ আছে ঠেকাতে বলিস। নুসরাতকে তো আগুন লাগানোর আগে হত্যা করেনি, তোকে আগে টুকরো টুকরো করে তার পর আগুনে পোড়াব। পরে তোর লাশের ছাইও পাওয়া যাবে না, গুম করে দেব।

আল আমিনের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে নাজমা বলেন, আল আমিন ২০০৮ সাল পর্যন্ত কয়রা সুন্দরবন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিল। তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে প্রায় সবাই বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। অনুপ্রবেশ করে একমাত্র আল আমিন একটি পদ পায়।

নাজমা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ নেতা আল আমিনের মেজ ভাই আব্দুস সালাম বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিরুদ্দেশ। তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে সুন্দরবনে ডাকাত দল আকরাম বাহিনীর সদস্য ছিলেন। বর্তমান সরকার ডাকাত নির্মূল শুরু করলে আল আমিন ভাইকে রক্ষা করতেই ছাত্রলীগে যোগ দেয়। পরবর্তীতে আল আমিনের প্রভাবে আব্দুস সালাম আবারও ‘সালাম বাহিনী’ নামে ডাকাত দল গঠন করে সুন্দরবনে ডাকাতি করছে।

এছাড়াও এর আগে আল আমিনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তারই এলাকার ৫টি সংখ্যালঘু পরিবার। সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে এক প্রকার দেশছাড়া করা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল যে বাড়িতে সেই বাড়িওয়ালার ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ করে কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩নং কয়রা গ্রামের প্রভাষ চন্দ্র সরদার।

২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল কয়রা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রভাষ চন্দ্র সরদার, কৃষ্ণপদ মণ্ডল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সঞ্জয় কুমার বৈদ্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপুল বাছাড় আল আমিনের বিরুদ্ধে মাছের ঘেরের জন্য চাঁদা দাবি, ঘের দখল, জমির ধান লুট করে নেয়া, নির্যাতন করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকিসহ নানা অভিযোগ করেন।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯নং সেক্টরের নারায়ণ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ছিল প্রভাষ চন্দ্র সরদারের বাড়িতেই।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত