ল্যাট্রিন থেকে মোবাইল তুলতে গিয়ে পীরগঞ্জে নিহত ২

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ১১ জুন ২০১৯, ২২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

এনামুল হক
এনামুল হক

রংপুরের পীরগঞ্জে ল্যাট্রিনের কুয়ায় পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন তুলতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন অসুস্থ হয়েছেন।

সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়ঘোলা গ্রামে ওই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে নামাজে জানাযা শেষে ২ জনকে দাফন করা হয়।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বড়ঘোলার দুলু মিয়ার ছোট কন্যা রিতু মনি (৫) তাদের নির্মাণাধীন ঘরের ভিতরে রিং-স্লাব দিয়ে তৈরি ল্যাট্রিনে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে যায়। এ সময় ফোনসেটটি শিশুর হাত ফসকে ল্যাট্রিনের কুয়ায় পড়ে যায়।

এরপরে রিতুর বাবা দুলু মিয়া (৩৪) ল্যাট্রিনের উপরের স্লাবটি (ঢাকনা) সরিয়ে উপুড় হয়ে হাত দিয়ে ফোনসেটটি তুলতে গিয়ে পিছলে মাথা নীচু হয়ে কুয়ার ভিতরে পড়ে যান।

বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও তিনি না ওঠায় তার চাচাতো ভাই রংপুর কারমাইকেল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এনামুল হক (১৮) কুয়ায় নেমে পড়ে এবং সেও ভেতরে তলিয়ে যায়।

এ দুজনের সাড়া শব্দ না পেয়ে অপর চাচাতো ভাই শাহিন মিয়াও (২৮) ওই কুয়ায় নামেন। কুয়ার ভেতরে নেমে শ্বাসকষ্ট হলে শাহিন চিৎকার শুরু করলে তাকেসহ এনামুল হককে এলাকাবাসী তুলে আনে।

খবর পেয়ে পীরগঞ্জ দমকল বাহিনীর সদস্যরা ল্যাট্রিনের কুয়ার ভেতর থেকে দুলু মিয়াকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে এনামুল মারা যায়। আহত শাহীন মিয়া পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে সুস্থ আছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন বলেন, ল্যাট্রিনের কুয়া বদ্ধ থাকায় এক ধরণের বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে অক্সিজেনের সংকট দেখা দেয়। এ কারণে কুয়ায় অক্সিজেন সংকটে ওই দুইজন মারা গেছেন।

নিহত দুলুর ১ ছেলেসহ ৩ মেয়ে রয়েছে। তিনি মাঝে মাঝে ঢাকায় রিকশা চালাতেন বলে জানা গেছে।

নিহত দুলুর স্ত্রী নুরন্নাহার বেগম স্বামীকে হারিয়ে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। মাঝে মধ্যে চেতনা ফিরে পেয়ে ডুকরে বলছিলেন, আহা! জীবনে মোর এইটা কি ছিল! আল্লাহ ক্যান তুই মোক না মারি স্বামীক মারলু। মুই ছইল-পইল নিয়া এ্যালা কি করিম, কোনটে যাইম।’

অপরদিকে কলেজছাত্র এনামুলের অকাল মৃত্যূতে তার পরিবারেও চলছে শোকের মাতম।

তার বাবা আজহার আলী কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তিন সন্তানের মধ্যে এনামুল ছোট। সাংসারিক কষ্টের পরেও এনামুলকে লেখাপড়া শেখাতে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তি করে দিয়েছিলেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×