অজ্ঞাত ওই নারীর লাশটি কার?

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১২ জুন ২০১৯, ২৩:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

লাশ

রাজশাহীর বাঘায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মুখে মবেল মাখানো সেই লাশ দাফনের একদিন পর জীবিত পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে আড়ানী রেল স্টেশন থেকে জীবিত উদ্ধার করে প্রথমে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। পরে চেয়ারম্যান থানায় প্রেরণ করেন।

এদিকে চারঘাট উপজেলার চারাবটতলা এলাকার সুরজ মিয়া নামের এক যুবক ছবি দেখে দাবি করছেন এ লাশ তার স্ত্রী দোলেনা বেগমের। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন প্রকৃত লাশটি কার?

জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বাঘা থানার পুলিশ চকবাউসা গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে মুখে পোড়া মবেল মাখানো অজ্ঞাত (৪৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার লাশ উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগমের বলে দাবি করা হয়।

পরে বুধবার সকাল ১০টায় আড়ানী রেল স্টেশন থেকে গোলাপি বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। সেখানে গোলাপি বেগমের মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগম এর উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসল গোলাপি বেগমকে সনাক্ত করা হয়। তার কাছে থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের সঙ্গে নামের মিল রয়েছে। পরে চেয়ারম্যান গোলাপি বেগমসহ উভয় পরিবারকে থানায় পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে গোলাপি বেগম বলেন, ঈদের আগে বুধবার রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। আমি নিরুপায় হয়ে পরের দিন বিদ্যুৎ বিল দেয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্মীয় বাড়িতে যায়।

তিনি বলেন, আমি ৬ বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের ৫ মাসের সন্তানের কথা ভেবে বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে থেকে মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে চিনতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। সেখান থেকে থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এরমধ্যে দুপুর দেড়টার দিকে চারঘাট উপজেলার চারাবটতলা এলাকার সুরজ মিয়া নামের এক যুবক ছবি দেখে দাবি করছেন এ লাশ তার স্ত্রী দোলেনা বেগমের।

লাশের দাবিদার দোলেনা বেগমের স্বামী সুরুজ মিয়া বলেন, রোববার কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে বিভিন্নস্থানে খোঁজ খবর করে পায়নি। এক মাধ্যমে জানতে পারি বাঘা থানায় একটি লাশ পাওয়া গেছে এবং দাফন সম্পূর্ণ হয়েছে। পরে পুলিশের কাছে ছবি দেখে চিনতে পারি এবং এ লাশ আমার স্ত্রী দোলেনার।

গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, গোলাপি বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমি বাদী হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। তার মুখে মবেল মাখানোর কারণে সঠিকভাবে লাশ চিনতে পারেনি।

আড়ানী পৌর নারী কাউন্সিলর ও পাঁচপাড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে গোলাপি বেগম ৬ বছরের পুত্র সন্তান মারুফ হোসেনকে রেখে এক যুবকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে চলে যায়। গোলাপি বেগমের স্বামী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরে আমি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা পূনরায় তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে আনা হয়। পরে শুনি সে আবার চলে গেছে। আবারও ফিরে এসেছে।

গোলাপি বেগমের শ্বশুর বিচ্ছাদ আলী বলেন, আমার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গোলাপি নিজের ইচ্ছা মতো চলাফেরা করে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের বিভিন্ন কথা শুনে দেয়। ফলে আমরা দেখেও না দেখার ভান করে চলি। এরমধ্যে আমার ছেলে ও নাতীকে রেখে চলে গিয়েছিল। ১২ দিন পর তাকে জীবিত পাওয়া গেছে। তবে চকবাউসা গ্রামের লালু প্রামানিকের ভুট্টা ক্ষেতে যে লাশ পাওয়া যায়, সেটা অন্য কারো।

আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাষক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, গোলাপি বেগমসহ উভয়পক্ষ আমার কাছে আসলে, তাদেরকে থানায় প্রেরণ করেছি। তবে আত্মীয় স্বজনের কাছে জেনে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মনে হয়েছে, সে আসল গোলাপি।

লাশের দাবিদার সুরুজ মিয়ার শ্বশুর এসাহাক বলেন, বিয়ের পর থেকে জামাই মেয়ে আমার বাড়িতে আছে। তাদের মধ্যে কোনো অমিল চোখে পড়ে। তবে সংসার করতে গেলে মাঝেমধ্যে দুএকটি কথা হয়। রোববার থেকে মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হচ্ছিল। পরে জানতে পারি বাঘা এলাকায় একটি লাশ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি দেখে চিনতে পারি এ লাশ আমার মেয়ে দোলেনা।

এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী জানান, উদ্ধারকৃত লাশটি ভূলভাবে তার আত্মীয়রা শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পারিবারিক গোরস্থানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অন্য জায়গায় তাকে হত্যা করে চকবাউসা গ্রামের লালু প্রামানিকের ভুট্টা ক্ষেতে লাশ ফেলে রাখা হয়। তবে এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×