কোটিপতিরা যখন গৃহহীনদের তালিকায়...

  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর ১৪ জুন ২০১৯, ২২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জ ম্যাপ
সুনামগঞ্জ ম্যাপ

সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি কাজের বিনিময়ে টাকার (কাবিটা) প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের তালিকায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় নাম লিখিয়েছেন লাখপতি থেকে শুরু করে কোটিপতিরাও।

জেলার শাল্লা উপজেলায় কাবিটা প্রকল্পে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দুর্যোগসহনীয় বাসগৃহ নির্মাণের উপকারভোগীদের নামের তালিকায় এমন তথ্য জালিয়াতির ঘটনা জানাজানির পর গোটা জেলাজুড়ে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শুক্রবার শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন যুগান্তরকে জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কাবিটা কর্মসূচির বিপরীতে শাল্লা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার(পিআইও) দফতর ওই উপজেলার ১৭টি গৃহহীন পরিবারের জন্য দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করে।

তিনি বলেন, কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে উপকাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে সরকারি ম্যানুয়্যেল অনুযায়ী সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই গত ১৩ মে তালিকাটি অনুমোদন করেন।

উপজেলাবাসীর অভিযোগ, অনুমোদিত সেই তালিকায় ১৭টি উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে ৫টি ছাড়া বাকিরা লাখপতি থেকে শুরু করে কোটিপতি।

তালিকায় থাকা উপকারভোগীদের নামানুসারে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউপির ফরিদপুরের মামুদনগর গ্রামের আবু নছর মিয়ার ব্যবসায়ী ছেলে মতিউর রহমান। তিনি ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদের জামাতাও বটে।

এছাড়া একই গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে ইয়াহিয়া আলম, উজান ইয়ারাবাদ গ্রামের উকিল আলীর ছেলে কোটিপতি সালাম মিয়া ও ইউপি সদস্য বশির মিয়ার ভাই আব্দুল হামিদের নামও রয়েছে।

রয়েছে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের সাবেক শিক্ষক অভিমূন্য দাসের ছেলে চিন্ময় দাস, মেঘনাপাড়া গ্রামের প্রাণধন দাসের স্ত্রী শ্রীমতি বালা দাস, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী ইমরানা বেগমের নাম।

উপজেলার ভুক্তভোগী অসহায় নারী মমিনা বেগম কাবিটার তালিকায় থাকা অনিয়মের বিষযে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

সিলেট গণদাবি পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, এমন তালিকা প্রণয়ন আর অনুমোদনের পর খুব সহজেই বোঝা যায়, ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইও মাঠ পর্যায়ে না গিয়ে অফিসে বসে শুধু ফাইল ওয়ার্ক করে নিজেদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

শাল্লা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের কাছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তালিকা তৈরিতে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সঠিকভাবে যাচাই না করার কিছুটা ক্রটির কথা স্বীকার করে বললেন, ফের যাচাই-বাছাই করে নতুন করে তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×