সেবাপ্রার্থীর কাছে ঘুষ দাবি, অতঃপর...

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ১৮ জুন ২০১৯, ২১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১৫নং বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বাসিন্দা আরেফিন সাকিব। বয়স ২৭ বছর। পেশায় একজন প্রকৌশলী। দুর্ভাগ্যক্রমে তার জন্ম তারিখের সঙ্গে জন্মনিবন্ধনের মিল নাই।

ফলে এই অমিল তার পাসপোর্ট তৈরির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বিগত কয়েক সপ্তাহ খুব ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন তার নিজের পাসপোর্ট তৈরির কাজ নিয়ে। তাই রমজানের ঈদের আগে ও পরে দুইবার জন্মসনদ সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আসেন।

এর মধ্যে গত ১১ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন আরেফিন। ওই দিন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ইউএনওর অনুপস্থিতি ও আরেফিনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওই কার্যালয়ের আবদুল মালেক নামে এক কর্মচারী তাকে জানান, এসব কাজগুলো নাকি এখন আর ডিসি স্যার করে না, সব কাজ ঢাকায় গিয়ে করতে হয়। আর এ কাজ করতে তার (কর্মচারী) ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন।

ওই পরিমাণ টাকা দিলে আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে কাজটি করে দেবেন বলে ওই কর্মচারী ভুক্তভোগী আরেফিনকে আশ্বস্ত করেন।

তবে এত টাকা আরেফিন জোগাড় করতে না পেরে রোববার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীনকে অবহিত করেন। তিনি (ইউএনও) জানতে পেরে সমস্যার সমাধানসহ অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ দেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউএনও রুহুল আমিন মোবাইল ফোনে জানান, তিনি প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন। এই সামান্য একটা চিঠির জন্য ১২ হাজার টাকা ঘুষ দাবির কথা শুনে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আরেফিন নামে ওই ব্যক্তি আমাকে অবহিত করলে আমি তাকে আমার কার্যালয়ে আসতে বলি। এ ছাড়া আমাকে জানানোর দুই ঘণ্টার মধ্যে আরেফিনকে তার সেবা বুঝিয়ে দিয়েছি। আর এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় ওই কর্মচারীকে শোকজ করি এবং বিভাগীয় মামলার উদ্যোগ নিয়েছি।

এদিকে এ ঘটনাটি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে যুগান্তরের কাছে দাবি করেন অভিযুক্ত কর্মচারী আবদুল মালেক।

তিনি বলেন, ঈদের পর একদিন আরেফিন নামে ওই ব্যক্তি ইউএনওর কার্যালয়ে তার সমস্যা নিয়ে আসেন। এ সময় ইউএনওকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আমাদের কর্মচারী পারভেজ তাকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি আমাকে তার সমস্যার কথা বলে এবং তার কথা শুনে আমি তাকে এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্বজিৎ নামে এক কর্মচারীর সঙ্গে দেখা করতে বলি।

আবদুল মালেক বলেন, বিশ্বজিৎকে না পেয়ে আরেফিন আমার কাছে এসে ফের জানতে চান বিশ্বজিৎ কোথায়? তখন আমি তাকে বলি জানি না। খুঁজে দেখেন আমি ব্যস্ত আছি। তখন তিনি আমাকে বলেন ঠিক আছে, আপনার ব্যস্ততা আমি দেখাচ্ছি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×