সোনামসজিদে ১০৬ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

  মো. জোবদুল হক, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে ১৯ জুন ২০১৯, ১৪:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

সোনামসজিদে ১০৬ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি
সোনামসজিদ স্থলবন্দর। ছবি: যুগান্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গত ১১ মাসেও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে গত ১১ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯৫ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ কোটি ৭২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে।

গত এপ্রিল মাস থেকে স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা কিছুটা ফিরে এলেও গত মে মাস থেকে আবারও ভাটা পড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে।

বর্তমানে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পেঁয়াজ-পাথর বন্দরে পরিণত হয়েছে। বন্দর দিয়ে বর্তমানে ৩৫ ধরনের আমদানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে আসছে মাত্র সাত ধরনের পণ্য। যেগুলোর আমদানির রাজস্ব নেই বললেই চলে।

মার্চ-এপ্রিলে কিছু বিভিন্ন ধরনের ফল আমদানি হলেও গত মে মাসে স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের অভাব, কাস্টমসের শতভাগ রাজস্ব আদায়ে কড়াকড়ি ও জনবল সংকটের ফলে যথাসময়ে পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হয়ে থাকে।

এ ছাড়া স্থলবন্দরের পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে ত্রুটি। ফলে এই বন্দর দিয়ে অনেকেই আমদানি করতে অনীহা প্রকাশ করে।

কাস্টমস দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯৫ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ কোটি ৭২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা কম হয়েছে।

সোনামসজিদ বন্দরে কাস্টমস কর্তৃক শতভাগ রাজস্ব আদায়ের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ওইসব বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করছে।

অন্যদিকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নেতৃবৃন্দ জানায়, দেশের অন্য বন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনে চললে সোনামসজিদ বন্দরেও রাজস্ব আয় বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানান, বর্তমানে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা পূর্বের কমিটির কর্মকর্তাদের মতোই কার্যক্রম পরিচালনা করায় বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য মুখথুবড়ে পড়েছে। রাজস্ব আয় কমেছে। আমদানি কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক হয়ে পড়েছেন বেকার।

আমদানি-রফতানি গতিশীলতা ফেরাতে বর্তমানে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিডেটের সমন্বয় কর্মকর্তা পিটু জানান, ইতিপর্বে পানামায় ৩৫০টি থেকে ৪৫০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশ করলেও মে মাসের প্রথম থেকে ১০০টি থেকে ১৭৫টি পর্যন্ত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক পানামায় প্রবেশ করছে। ফলে বর্তমানে পানামার ভেতর ফুটবল খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সোনামসজিদ শ্রমিক সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুখলেসুর রহমান জানান, গত মে মাস থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে পানামায় কর্মরত শ্রমিকের চার ভাগের তিন ভাগ শ্রমিকের মধ্যে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজস্ব আদায়, শ্রমিক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ কর্মচারীরা।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×