মাদারীপুরে নির্বাচনী সহিংসতা, যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে খুন

  মাদারীপুর ও টেকেরহাট প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০১৯, ২১:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

এরশাদ
এরশাদ

নির্বাচন পরবর্তী সহিংস ঘটনায় মাদারীপুর সদর উপজেলায় এরশাদ নামে এক যুবলীগ কর্মী খুন হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত এরশাদ সদর উপজেলার সবুজবাগ এলাকার বেলায়েত মুন্সীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ছোট ভাই ওবায়দুর রহমান কালু খান।

দীর্ঘদিন থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় এমপি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে বাহাউদ্দিন নাছিম সমর্থিত গ্রুপ থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয় কাজল কৃষ্ণ দে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করছিলো যুবলীগ কর্মী এরশাদ। এর জের ধরেই বুধবার দুপুরে শহরের সবুজবাগ এলাকায় দুর্বৃত্তরা এরশাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোষীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

এদিকে যুবলীগ কর্মী এরশাদের নিহত হওয়ার কিছু সময় পরেই জসিম গৌড়ার বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দোকানপাটসহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর মাদারীপুর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই এলাকাসহ আশ-পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

নিহতের মামা যুবলীগ নেতা কাওছার হোসেন অভিযোগ করে জানান, এরশাদ নৌকার সমর্থক হওয়ায় জসিম গৌড়া তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এরশাদকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। জসিমের বিরুদ্ধে ডাকাতি, খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনে আমাদের হত্যা করতে পারে, এই বিষয়টি পুলিশ সুপারকে বার বার বলা হলেও তাকে গ্রেফতার করেনি। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা জসিমসহ খুনিদের বিচার দাবি করি। এর আগে বুধবার বেলা ১০টার দিকে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া এলাকায় প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২৫ বাড়িঘর ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় মহিলাসহ আহত হয় ১৫ জন। এ গ্রামে মধ্যযুগীয় কায়দায় লুটপাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

ভাংচুর ও লুটপাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন-বজলু মাতুব্বর, আরিফ হাওলাদার, আউয়াল হাওলাদার, ইনু হাওলাদার, রায়হান হাওলাদার, সবুজ জমাদার, ওমর আলী, সাইদুল হাওলাদার ও আবুল মাতুব্বর। এছাড়াও ১০-১৫ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নৌকার সমর্থক শফিক খানের বাসায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার উৎসবমূখর পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণভাবে সদর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১০টায় নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পরই শুরু হয় সংহিংস ঘটনা। এ সময় তার বাসায় গেটের সামনের সার্টার কুপিয়ে ও বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার দত্তকেন্দুয়া গ্রামের নৌকার সমর্থক চিত্তরঞ্জন মৃধার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ১০টি ঘরে ভাংচুর করা হয়। এ সময় বাড়ির মহিলাসহ আহত হয় ১০ জন।

একই রাতে সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাজারে আনিছ চৌকিদার, নূরল হক চৌকিদার ও হারেজ চৌকিদারের দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা দাবি করেন।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক খানের বড় ভাই এবিএম বজলুর রহমান মন্টু খান বলেন, আমার ভাইয়ের বাসা লক্ষ্য করে বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। বাড়ির সামনের সাটার কুপিয়ে ভাঙচুর করেছে। আমরা আওয়ামী লীগের দলীয় লোক আমাদের বাসায় হামলা হলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা হবে? আমরা দোষীদের বিচার চাই।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×