জ্বীন তাড়ানোর নামে গৃহবধূকে হত্যা, ভণ্ড কবিরাজ দম্পতি গ্রেফতার

  সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ২০ জুন ২০১৯, ২২:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

ভণ্ড কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন
ভণ্ড কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জ্বীন তাড়ানোর নামে শারীরিক নির্যাতনে শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে নিহত ওই গৃহবধূর মা সুরাইয়া বেগম।

নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা ঢাকার কদমতলী থানার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে।

এ ঘটনায় ভণ্ড কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিনকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ফারুক হোসেন চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানাধীন মান্দার আলী এলাকার আবদুল মতিনের ছেলে। ওই দম্পতি সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ভাড়া থাকেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের ৩ দিন পর শাহনাজ আক্তার শিখা অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রায়ই সময় উল্টাপাল্টা আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় শিখাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও ভালো হয়নি। পরে প্রতিবেশীদের পরামর্শে গত ১৬ জুন কবিরাজ ফারুক হোসেনকে বাসায় ডেকে আনা হয়।

শাহনাজকে দেখে বদ জ্বীনে আছর করেছে বলে এক সপ্তাহের কবিরাজি চিকিৎসায় সে ভালো হবে এ আশ্বাস দেন ফারুক। শাহনাজকে ভালো করতে কবিরাজকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে মৌখিক চুক্তি করে কবিরাজ ফারুক। এতে শিখার পরিবার রাজি হলে শিখাদের বাসায় একদিন চিকিৎসা দেয়া হয়।

কিন্তু ভালো না হওয়ায় ফারুকের নিজ বাসায় নিয়ে চিকিৎসার করানোর প্রস্তাব দেয় কবিরাজ ফারুক। এতে শাহনাজের পরিবার রাজি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কবিরাজ শাহনাজকে বাসায় নিয়ে যায়। নিজের বাসায় নিয়ে কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন কবিরাজি চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন চালায় শাহনাজের উপর।

প্রথমে শাহনাজকে ঝাড়ু দিয়ে পেটানো হয়। পরে হাত ও পায়ের আঙুল মোচড়ানো হয়। এতে শাহনাজ চিৎকার করলে তার গলায় এবং বুকে পাঁ দিয়ে চেপে ধরে জ্বীনকে চলে যেতে বলে ভণ্ড কবিরাজ দম্পতি। নির্যাতনে শাহনাজ এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তার পরিবারকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় কবিরাজ।

পরদিন বুধবার বিকালে কবিরাজের ফোন পেয়ে শাহনাজের পরিবারের লোকজন কবিরাজের বাসায় গিয়ে শাহনাজের লাশ ফ্লোরে চাদর মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জসিম উদ্দিন জানান, গৃহবধূ শাহনাজ আক্তার শিখার শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তার পরিবার কোনো এক মাধ্যমে ভণ্ড কবিরাজ ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাত করলে ফারুক জানায় শিখাকে বদ জ্বীনে ধরেছে। তার চিকিৎসার নামে তাকে হাত পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে শিখা অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় কবিরাজ দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×