অভয়নগরে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ

  অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ২০ জুন ২০১৯, ২৩:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

অর্চনা সরকার
অর্চনা সরকার

মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর ভাষায় কথা বলতে শেখাবেন, ভালো আচরণ করতে শেখাবেন এটাই জানেন সবাই।

কিন্তু অভয়নগর উপজেলার ভূলাপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়েছে তার উল্টোটা। গত সোমবার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা অর্চনা সরকার পারিবারিক কলহের জের ধরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অর্পন মণ্ডলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন।

এছাড়া ওই ছাত্রের ওপর নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর ওই ছাত্র কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানায়। ছাত্রের মা তৃপ্তি মণ্ডল স্কুলে গিয়ে ওই শিক্ষিকার কাছে তার ছেলেকে নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে তাকেও গালিগালাজ করে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ওই গ্রামে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। ওই শিক্ষিকার ভয়ে দুদিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না কোমলমতি ওই শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শিক্ষিকা অর্চনা সরকারের স্বামী স্বাস্থ্যকর্মী প্রবীর মণ্ডল তার বাহিনী নিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরতে গিয়ে এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে গুরুতর জখম করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষিকার স্বামী প্রবীর মণ্ডল এবং তার তিন সহযোগী মিলন মণ্ডল, মিনার বিশ্বাস ও বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে আটক করে।

ওইদিন প্রবীর মণ্ডলের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের শিকার হয়েছিলেন শিক্ষার্থী অর্পনের বাবা অমিও মণ্ডলও। স্বামীকে পুলিশ আটক করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষিকা প্রতিশোধ নিলেন ওই শিশু শিক্ষার্থী অর্পনের ওপর।

এ বিষয়ে শিশু শিক্ষার্থী অর্পন মণ্ডল বলেন, আমার মা-বাবাকে উদ্দেশ করে ম্যাডাম খুবই খারাপ কথা বলেছেন। আমাকে মেরেছেন।

শিশু শিক্ষার্থীর মা তৃপ্তি মণ্ডল বলেন, আমার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে আমাকে বলে অর্চনা ম্যাডাম তাকে মারধর করেছেন। আমাদের নামে অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করেছেন। আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ঘটনাটি জানতে চেষ্টা করি। ওই সময়ে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে এসে আমাকেও গালিগালাজ করেন ওই ম্যাডাম। আমাকে স্কুল থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল কান্তি হালদার বলেন, গ্রামের স্কুল তাই চাইনি ঘটনাটি বড় আকারের হোক। নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অর্চনা সরকার বিষয়টি সম্পর্কে জানান, বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি মহল আমাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×