১০৩ টাকায় চাকরি নিতে কক্সবাজারে পুলিশের মাইকিং
jugantor
১০৩ টাকায় চাকরি নিতে কক্সবাজারে পুলিশের মাইকিং

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২৩ জুন ২০১৯, ১৫:০৬:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

১০৩ টাকায় চাকরি নিতে কক্সবাজারে পুলিশের মাইকিং
পুলিশের মাইকিং: ছবি: সংগৃহীত

যোগ্যতা থাকলে পুলিশের গর্বিত সদস্য হোন। তদবির করে কিংবা ধান্ধাবাজদের খপ্পরে পড়ে নিজের ও পরিবারের ক্ষতি করবেন না। কারণ পুলিশের চাকরি পেতে কক্সবাজার জেলায় কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। জমি কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করতে হয় না। মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়া যাবে। 

এর মধ্যে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট এবং ৩ টাকার ফরম কিনলেই হবে। এমন তথ্য দিয়ে পুরো কক্সবাজারজুড়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। 

রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। 

সূত্রমতে, অতীতে প্রায় পুলিশ কনেস্টবল নিয়োগের সময় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন প্রভাবশালীর বাড়িঘরে তদবিরে অস্থির থাকতেন চাকরির আগ্রহী পরিবারের লোকজন। এমনকি গরু, ছাগল, জমি ও শেষ সম্বল বসতভিটে বিক্রি করে চাকরি নামের সোনার হরিণ ধরতে ঘুষের টাকা জোগাড় করতেন। 

তার পরও অনিশ্চয়তা কাটত না চাকরি আগ্রহী পরিবারটির মাঝে। এমন পরিস্থিতি কক্সবাজারবাসীকে বারংবার মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ এ বছর পুলিশ কনেস্টবল পদে ১০৩ টাকায় গর্বিত সদস্য হওয়ার আহ্বানে জেলা পুলিশের মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কেন্দ্র করে জেলাবাসীর মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। 

পাশাপাশি অনেক অসহায় ও গরিব পরিবারের যোগ্য সন্তানরা এবারে পুলিশের নিয়োগে প্রতিযোগিতা করার সাহস নিয়েছে। 

কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়ার ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, জীবনে প্রথমবার দেখলাম এবং শুনলাম পুলিশের চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হবে না। তাও আবার মাইকিং করে বলা হচ্ছে। যদি প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে, তা হলে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করব। 

কারণ যোগ্যতা থাকলে অসহায় ও গরিব অভিভাবকরাও বলতে পারবে আমার ছেলে কিংবা মেয়ে পুলিশ! এই সততার দৃষ্টান্ত দেখানোর জন্য পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ।  

এদিকে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বলেন, আগামী ২৬ জুন কক্সবাজার পুলিশলাইনস মাঠে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হবে। এবারে সব মিলিয়ে কক্সবাজার থেকে ৩৮৬ জন বাংলাদেশ পুলিশে স্থান পাবে। কিন্তু অভিযোগ আছে নিয়োগের সময় অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। 

চাকরির জন্য শেষ সম্বল হাতছাড়া করেন। কিন্তু এসবের আশ্রয় নিলে উল্টো চাকরি হবে না। কারণ যোগ্যতায় যারা আসবেন না, তারা হাজারও তদবির কিংবা ঘুষ দিয়ে আসার সম্ভাবনা একদম নেই। সুতরাং এবারের নিয়োগ হবে যোগ্যতার নিয়োগ। 

পুলিশ সুপার মাসুদ বলেন, সবাইকেই আহ্বান করব ১০৩ টাকায় পুলিশে লোক নিয়োগের এ বার্তা জেলার অন্যান্য এলাকায় পৌঁছে দেবেন। সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী লাইনে দাঁড়াবে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যোগ্যতা অনুযায়ী পুলিশে চাকরি পাওয়া যাবে। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এবারে যারা নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় আসবে, তাদের মধ্যেও যদি কেউ কাউকে ঘুষ দিয়ে চাকরিতে আসার প্রমাণ মিলে তা হলে যোগ্যতা থাকার সত্ত্বেও তদন্তপূর্বক প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।  

১০৩ টাকায় চাকরি নিতে কক্সবাজারে পুলিশের মাইকিং

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২৩ জুন ২০১৯, ০৩:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
১০৩ টাকায় চাকরি নিতে কক্সবাজারে পুলিশের মাইকিং
পুলিশের মাইকিং: ছবি: সংগৃহীত

যোগ্যতা থাকলে পুলিশের গর্বিত সদস্য হোন। তদবির করে কিংবা ধান্ধাবাজদের খপ্পরে পড়ে নিজের ও পরিবারের ক্ষতি করবেন না। কারণ পুলিশের চাকরি পেতে কক্সবাজার জেলায় কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। জমি কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করতে হয় না। মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়া যাবে।

এর মধ্যে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট এবং ৩ টাকার ফরম কিনলেই হবে। এমন তথ্য দিয়ে পুরো কক্সবাজারজুড়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, অতীতে প্রায় পুলিশ কনেস্টবল নিয়োগের সময় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন প্রভাবশালীর বাড়িঘরে তদবিরে অস্থির থাকতেন চাকরির আগ্রহী পরিবারের লোকজন। এমনকি গরু, ছাগল, জমি ও শেষ সম্বল বসতভিটে বিক্রি করে চাকরি নামের সোনার হরিণ ধরতে ঘুষের টাকা জোগাড় করতেন।

তার পরও অনিশ্চয়তা কাটত না চাকরি আগ্রহী পরিবারটির মাঝে। এমন পরিস্থিতি কক্সবাজারবাসীকে বারংবার মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ এ বছর পুলিশ কনেস্টবল পদে ১০৩ টাকায় গর্বিত সদস্য হওয়ার আহ্বানে জেলা পুলিশের মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কেন্দ্র করে জেলাবাসীর মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

পাশাপাশি অনেক অসহায় ও গরিব পরিবারের যোগ্য সন্তানরা এবারে পুলিশের নিয়োগে প্রতিযোগিতা করার সাহস নিয়েছে।

কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়ার ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, জীবনে প্রথমবার দেখলাম এবং শুনলাম পুলিশের চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হবে না। তাও আবার মাইকিং করে বলা হচ্ছে। যদি প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে, তা হলে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করব।

কারণ যোগ্যতা থাকলে অসহায় ও গরিব অভিভাবকরাও বলতে পারবে আমার ছেলে কিংবা মেয়ে পুলিশ! এই সততার দৃষ্টান্ত দেখানোর জন্য পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ।

এদিকে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বলেন, আগামী ২৬ জুন কক্সবাজার পুলিশলাইনস মাঠে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হবে। এবারে সব মিলিয়ে কক্সবাজার থেকে ৩৮৬ জন বাংলাদেশ পুলিশে স্থান পাবে। কিন্তু অভিযোগ আছে নিয়োগের সময় অনেকেই প্রতারণার শিকার হন।

চাকরির জন্য শেষ সম্বল হাতছাড়া করেন। কিন্তু এসবের আশ্রয় নিলে উল্টো চাকরি হবে না। কারণ যোগ্যতায় যারা আসবেন না, তারা হাজারও তদবির কিংবা ঘুষ দিয়ে আসার সম্ভাবনা একদম নেই। সুতরাং এবারের নিয়োগ হবে যোগ্যতার নিয়োগ।

পুলিশ সুপার মাসুদ বলেন, সবাইকেই আহ্বান করব ১০৩ টাকায় পুলিশে লোক নিয়োগের এ বার্তা জেলার অন্যান্য এলাকায় পৌঁছে দেবেন। সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী লাইনে দাঁড়াবে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যোগ্যতা অনুযায়ী পুলিশে চাকরি পাওয়া যাবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এবারে যারা নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় আসবে, তাদের মধ্যেও যদি কেউ কাউকে ঘুষ দিয়ে চাকরিতে আসার প্রমাণ মিলে তা হলে যোগ্যতা থাকার সত্ত্বেও তদন্তপূর্বক প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন