২ হাজার টাকার জন্য হত্যা করে লাশ ফেলা হয় হাওরে

  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর ২৪ জুন ২০১৯, ১৪:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

২ হাজার টাকার জন্য হত্যা করে লাশ ফেলা হয় হাওরে
ছবি: যুগান্তর

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণ শেষে ভাড়ার দুই হাজার টাকা দাবি করায় এক মাঝিকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহের হাত-পা ও মুখ বেঁধে হাওরের পানিতে ফেলে গুমের চেষ্টা করা হয়। নিহত মাঝির নাম সুজন সরকার (২৮)।

রোববার ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দিতে হত্যা ও লাশগুমের দায় স্বীকার করেন মূলহোতা কাজল।

নিখোঁজ সেই মাঝির মরদেহ শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মপাশার মধ্যনগরের টগার হাওর থেকে ১১ দিন পর উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত সুজন ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার হরিপুর গ্রামের প্রয়াত আশুতোষ সরকারের ছেলে।

এ ঘটনায় তিন অপহরণকারীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের টেপিরকোনা গ্রামের লাল চাঁনের ছেলে কাজল মিয়া (২৫), বলরামপুর গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে তানভীর (২৯), মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দা গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে মোশারফ হোসেন (৩০)।

সোমবার মধ্যনগর থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ জানান, গ্রেফতারকৃতরা ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুজন সরকারকে অপহরণ, হত্যা ও লাশগুমের দায় স্বীকার করে রোববার জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার সদরের পিঁপড়াকান্দা নৌকাঘাট থেকে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের কথা বলে গত ১২ জুন সুজন সরকারের ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি (ট্রলার) ভাড়া করে একই এলাকার কাজল, তানভীর ও মোশারফ।

দিনভর হাওর ভ্রমণশেষে সন্ধ্যায় ঘাটে ফিরে ভ্রমণকারীরা দুই হাজার টাকার পরিবর্তে মাত্র ৩০০ টাকা নৌকাভাড়া হাতে গুজে দেয়। এ নিয়ে সুজনের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়।

ক্ষেপে গিয়ে পরিপূর্ণভাড়া পরিশোধের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে অপহরণের পর ফের রাত ৮টা অবধি মধ্যনগর এলাকার পার্শ্ববর্তী টগার হাওরে নৌকা নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তারা। এর একপর্যায়ে নৌকার মাঝি সুজন সরকারকে নৌকার ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করে তিন ভ্রমণকারী।

এর পর তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে টগার হাওরের পানিতে ফেলে দিয়ে সুজনের নৌকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায় হত্যাকারীরা।

অপরহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা কাজল বিজ্ঞ আদালতে দেয়া তার জবানবন্দিতে জানায়, ১৩ জুন সুজনের পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে কল করে। এ সময় সুজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে পরিবারকে দুদিনের সময় বেঁধে দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

তবে পরিবারের সদস্যরা পরে সুজনের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি কেউ রিসিভ করেননি।

১৪ জুন শুক্রবার বিকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মধ্যনগর সুজনের নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

জিডি সূত্র ও মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সোহেল আহমদ ২১ জুন শুক্রবার সকালে প্রথমেই মধ্যনগরের বলরামপুরের তানভীরকে গ্রেফতার করেন।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নৌকার ভাড়া দাবি করায় তর্কাতর্কির জের ধরে সুজনকে কৌশলে অপহরণ করে তিনজন মিলে শ্বাসরোধে হত্যার পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে লাশ গুমের জন্য টগার হাওরের পানিতে ফেলে দেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন।

এর পরই পুলিশের একটি দল রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডা থেকে শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনার মূলহোতা কাজল ও মোশারফকে গ্রেফতার করে শনিবার দুপুরে মধ্যনগর ফিরে আসে।

থানা পুলিশ শনিবার দুপুরে ফের গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে নিয়ে হাওরে সন্ধান চালিয়ে মধ্যনগরের টগার হাওর থেকে সুজনের মরদেহ ও ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তার নৌকাটি উদ্ধার করে।

সোমবার সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, সুজন নিখোঁজ-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের রহস্য খুব দ্রুত সময়ে পুলিশ উদ্ঘাটন করতে পেরেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক, দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দখিলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×