ট্রেন দুর্ঘটনায় সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
jugantor
ট্রেন দুর্ঘটনায় সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

  সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২৪ জুন ২০১৯, ১৮:৫২:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা
কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে উঠেছে। এ দুর্ঘটনায় অনেকে আবেগ ধরে রখেতে পারেনি। কেউ কেউ হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

তারিক হাসান নামের একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ, সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স, বিনিময়ে এদেশের সরকারগুলো আমাদের কী দিয়েছে? ভাঙা সড়ক? জীর্ণ রেলপথ? থার্ড ক্লাস কিছু ট্রেন?

শাহবাজপুরের সেই ডাবল ডেকার ব্রিজের ভয়ে বাসে আমার ঘুম লাগতো না। সেই সেতু অবশেষে ধসেই পড়লো।

ব্রিটিশ আমলের ব্রিজের উপর দিয়ে যখন ট্রেন পার হতো, ভাবতাম এতোদিন ধরে এগুলো কি আসলেই ঠিক আছে? তেমন একটা ব্রিজ থেকেই ছিটকে গেলো উপবন এক্সপ্রেস; মধ্যরাতে। এই প্রাণ বিয়োগের ক্ষতি আপনারা আর ১৪টা পদ্মা সেতু বানিয়ে পূরণ করতে পারবেন না। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই আমার। শুধু মন থেকে ধিক্কার জানাই আপনাদের। 

সৌমিক আহমেদ লিখেছেন, ‘রেলে খালি মন্ত্রী বদল হয় যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয় না।’’

ফাউজিয়া নাসরিন লিখেছেন, ‘দুর্বল, নড়বড়ে কালভার্ট – যার জন্য ট্রেনের ভার বহনের ক্ষমতা ছিল না। সারা দেশে এরকম নড়বড়ে, পুরোনো রেলসেতু, কালভার্ট আছে কিনা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করা দরকার। চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি রেলকে শেষ করে দিয়েছে। আগের রেলমন্ত্রী রেলসেতুতে বাঁশ ব্যবহার করে সেটা নিরাপদ বলে সাফাই গেয়েছিলেন।’

তাউসিফ আয়ান লিখেছেন, ‘এই চার সদস্য ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা এটা দেখার জন্য আবার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি বানাবে। আবাল এক দেশে আছি আমরা।’

আবু মুসা লিখেছেন, ‘সব সরকারের আমলেই সিলেট উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। উন্নয়ন থেকে আওয়াজ বেশি হওয়াতে আজ উপবন ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে।  সিলেটের তেল গ্যাসে ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে চলে সারা দেশের অধিকাংশ উন্নয়ন ও বৈদেশিক দেনা পরিশোধ। আর সিলেটের রেল চলছে বিট্রিশ আমলে নির্মিত রেল লাইন ও ব্রিজের ওপর দিয়ে। কিন্তু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আমাদের টাকা দিয়ে ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে আর আমরা ২৬২ বছর থেকে পড়ে রয়েছি মিটারগেজে। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। বাঘা বাঘা নেতা ও মন্ত্রী পেয়েছিল সিলেট কিন্তু প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও সাইফুর রহমান ছাড়া কেউ তেমন উন্নয়ন করেননি গোটা সিলেট বিভাগে। লজ্জা হওয়া উচিত তাদের যারা নিজ বিভাগের জন্য বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন নাই।’

এম এ রাকিব লিখেছেন, ‘ভাড়া করা ইঞ্জিন, হাওলাতি কোচ, ব্রিটিশ আমলের ব্রিজ আর দুর্বল লাইন দিয়ে চলছে সিলেটিদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিজিটাল আমলের ট্রেনগুলো।’

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, ‘ভারতের ফেলে দেওয়া পুরাতন ইঞ্জিন মাসিক চুক্তিতে ভাড়ায় আনছেন আমাদের মন্ত্রীসাব। এখন থেকে দৈনিক ট্রেন দুর্ঘটনা দেখা যাবে দেশে’।

এস কে এমডি নাজমুল হক তার ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন ‘উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে সিলটিরা, ৩৬০ আওলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট, সিলেটকে বলা হয় দ্বিতীয় লন্ডন, সিলেটকে বলা হয় চায়ের দেশ, পাথরের স্বর্গ রাজ্য বলা হয় সিলেটকে, রেমিটেন্স যোদ্ধাদের উর্বর ভূমি বলা হয় সিলেটকে, প্রকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ উর্বর ভূমি হল সিলেট।

আমাদের রেমিটেন্স এদেশের রিজার্ভ ইতিহাসের পর ইতিহাস গড়ছে, আমাদের চা রফতানি করে, জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে, আমাদের পাথর যেখানে সারা বাংলা দেশের অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করছে, আমাদের গ্যাস সম্পদ যেখানে সাড়া বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করছে। সেখানে আমরা সিলেটিরা কতটা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পাচ্ছি?

গত এক সপ্তাহ হয়ে গেল সিলেটিরা সাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। গতকাল থেকে সিলেটিরা রেলপথেও সারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমার প্রশ্ন, দেশের উন্নয়নে এতো কিছু দেয়ার পরও, আমরা সিলটিরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত কেন? কেউ কি আছেন এর জবাব দেবেন?’

মিথুন কুমার শীল, ‘লিখেছেন-অবহেলিত সিলেট, সিলেট এর এমপি মন্ত্রীদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি অবলোকন ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নাই।’

ট্রেন দুর্ঘটনায় সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

 সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২৪ জুন ২০১৯, ০৬:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা
কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে উঠেছে। এ দুর্ঘটনায়অনেকে আবেগ ধরে রখেতে পারেনি। কেউ কেউ হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

তারিক হাসান নামের একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ, সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স, বিনিময়ে এদেশের সরকারগুলো আমাদের কী দিয়েছে? ভাঙা সড়ক? জীর্ণ রেলপথ? থার্ড ক্লাস কিছু ট্রেন?

শাহবাজপুরের সেই ডাবল ডেকার ব্রিজের ভয়ে বাসে আমার ঘুম লাগতো না। সেই সেতু অবশেষে ধসেই পড়লো।

ব্রিটিশ আমলের ব্রিজের উপর দিয়ে যখন ট্রেন পার হতো, ভাবতাম এতোদিন ধরে এগুলো কি আসলেই ঠিক আছে? তেমন একটা ব্রিজ থেকেই ছিটকে গেলো উপবন এক্সপ্রেস; মধ্যরাতে। এই প্রাণ বিয়োগের ক্ষতি আপনারা আর ১৪টা পদ্মা সেতু বানিয়ে পূরণ করতে পারবেন না। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই আমার। শুধু মন থেকে ধিক্কার জানাই আপনাদের।

সৌমিক আহমেদ লিখেছেন, ‘রেলে খালি মন্ত্রী বদল হয় যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয় না।’’

ফাউজিয়া নাসরিন লিখেছেন, ‘দুর্বল, নড়বড়ে কালভার্ট – যার জন্য ট্রেনের ভার বহনের ক্ষমতা ছিল না। সারা দেশে এরকম নড়বড়ে, পুরোনো রেলসেতু, কালভার্ট আছে কিনা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করা দরকার। চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি রেলকে শেষ করে দিয়েছে। আগের রেলমন্ত্রী রেলসেতুতে বাঁশ ব্যবহার করে সেটা নিরাপদ বলে সাফাই গেয়েছিলেন।’

তাউসিফ আয়ান লিখেছেন, ‘এই চার সদস্য ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা এটা দেখার জন্য আবার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি বানাবে। আবাল এক দেশে আছি আমরা।’

আবু মুসা লিখেছেন, ‘সব সরকারের আমলেই সিলেট উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। উন্নয়ন থেকে আওয়াজ বেশি হওয়াতে আজ উপবন ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। সিলেটের তেল গ্যাসে ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে চলে সারা দেশের অধিকাংশ উন্নয়ন ও বৈদেশিক দেনা পরিশোধ। আর সিলেটের রেল চলছে বিট্রিশ আমলে নির্মিত রেল লাইন ও ব্রিজের ওপর দিয়ে। কিন্তু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আমাদের টাকা দিয়ে ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে আর আমরা ২৬২ বছর থেকে পড়ে রয়েছি মিটারগেজে। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। বাঘা বাঘা নেতা ও মন্ত্রী পেয়েছিল সিলেট কিন্তু প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও সাইফুর রহমান ছাড়া কেউ তেমন উন্নয়ন করেননি গোটা সিলেট বিভাগে। লজ্জা হওয়া উচিত তাদের যারা নিজ বিভাগের জন্য বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন নাই।’

এম এ রাকিব লিখেছেন, ‘ভাড়া করা ইঞ্জিন, হাওলাতি কোচ, ব্রিটিশ আমলের ব্রিজ আর দুর্বল লাইন দিয়ে চলছে সিলেটিদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিজিটাল আমলের ট্রেনগুলো।’

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, ‘ভারতের ফেলে দেওয়া পুরাতন ইঞ্জিন মাসিক চুক্তিতে ভাড়ায় আনছেন আমাদের মন্ত্রীসাব। এখন থেকে দৈনিক ট্রেন দুর্ঘটনা দেখা যাবে দেশে’।

এস কে এমডি নাজমুল হক তার ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন ‘উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে সিলটিরা, ৩৬০ আওলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট, সিলেটকে বলা হয় দ্বিতীয় লন্ডন, সিলেটকে বলা হয় চায়ের দেশ, পাথরের স্বর্গ রাজ্য বলা হয় সিলেটকে, রেমিটেন্স যোদ্ধাদের উর্বর ভূমি বলা হয় সিলেটকে, প্রকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ উর্বর ভূমি হল সিলেট।

আমাদের রেমিটেন্স এদেশের রিজার্ভ ইতিহাসের পর ইতিহাস গড়ছে, আমাদের চা রফতানি করে, জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে, আমাদের পাথর যেখানে সারা বাংলা দেশের অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করছে, আমাদের গ্যাস সম্পদ যেখানে সাড়া বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করছে। সেখানে আমরা সিলেটিরা কতটা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পাচ্ছি?

গত এক সপ্তাহ হয়ে গেল সিলেটিরা সাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। গতকাল থেকে সিলেটিরা রেলপথেও সারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমার প্রশ্ন, দেশের উন্নয়নে এতো কিছু দেয়ার পরও, আমরা সিলটিরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত কেন? কেউ কি আছেন এর জবাব দেবেন?’

মিথুন কুমার শীল, ‘লিখেছেন-অবহেলিত সিলেট, সিলেট এর এমপি মন্ত্রীদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি অবলোকন ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নাই।’

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন