চাঁদপুরে মাদকসেবী ফাঁস করলো মাদকবিক্রেতাদের নাম-পরিচয়

  চাঁদপুর প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০১৯, ০৩:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরে মাদকসেবী ফাঁস করলো মাদক বিক্রেতাদের নাম-পরিচয়
গণঅভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদপুর আশিকাঠি ইউনিয়নে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান। ছবি: যুগান্তর

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে একটি ভিডিও যেখানে দেখা গেছে এক মাদকসেবী নিজেই স্বীকার করছেন দিনে কয়টা ইয়াবা সেবন করেন, কার থেকে এই মাদক কেনেন।

এছাড়াও আরেকটি ইউটিউব ভিডিওতে একই এলাকার এক ইয়াবা বিক্রেতার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেখা গেছে। এই দুই ভিডিওতে বেরিয়ে এসেছে চাঁদপুরে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের নাম ও মাদক বিক্রির বর্তমান হালচিত্র।

ভিডিওতে মুসলিম ঢালী নামের ওই মাদকসেবী বলেন, মাদক বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো কাজ করি না। প্রবাসী ভাই এর কাছ থেকে প্রতিমাসে ২-৩ হাজার টাকা পাই। নিজে ইয়াবা খাই ও চলার জন্য ইয়াবা বিক্রি করি।

গত কয়েকমাস আগে প্রতিদিন কমপক্ষে ২শ’ থেকে ৩শ’ ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করতেন বলে জানান তিনি। এরপর তিনি বলেন, এখন বিক্রি কমেছে। প্রতিদিনি ৭০-৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করি।

ভিডিওগুলোর বক্তব্য থেকে জানা গেছে, এসব মাদকসেবী ও কারবারিরা চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের। জানা গেছে, ওই ভিডিও দুটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেছেন একই এলাকার প্রবাসী নজরুল ইসলাম সুমন।

সূত্রের খবর, আশিকাটি ইউনিয়নের চাঁদখাঁর দোকান, পূর্ব হোসেনপুর, পশ্চিম হোসেনপুর, বাবুরহাট, মুন্সিহাটের একাংশ, রালদিয়াসহ আরও কয়েখটি এলাকায় এখন মাদককারবারিদের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে।

প্রবাসী সুমন জানিয়েছেন, মাদককারবারিদের কারণে এলাকার যুব সমাজ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাদকের সঙ্গে জড়িত সেবনকারী ও বিক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ আটক হলেও ছাড়া পেয়ে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও তথ্য দেন তিনি।

এ মর্মে মাদকের ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, ২০ থেকে ২৫ জনের প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছায়াতলে এই মাদক কারবারি চলে। বিক্রেতাদের অর্থ জোগান ও প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া করবেন মর্মে তারা নেপথ্যে কাজ করছেন।

আর ওই চক্রকে মাদক বিক্রির টাকার ভাগ না দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে হয় খুচরা মাদক বিক্রেতাদের।

এ বিষয়ে হোসেনপুর গ্রামের মুসলিম ঢালী মাদক কারবারে জড়িত প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।

তার দাবি, এই কাজে প্রভাবশালীদের মধ্যে চাঁদখাঁর দোকান এলাকার মাহবুব গাজী, পূর্ব হোসেনপুর গ্রামের রাজিব ও সেলিম সার্বিক সহযোগিতা করেন। ইয়াবা কিনতে টাকার প্রয়োজন হলে সে টাকা যোগান দেয় রাজিব। অনেক সময় চাঁদখাঁর দোকান অফিস থেকেই ইয়াবা সাপ্লাই দেয় রাজিব।

প্রমাণ হিসাবে মুসলিম বলেন, রাজিব ইতিমধ্যে মাদকসহ প্রতারণা কাজে জড়িত অভিযোগে মামলার আসামি হয়েছেন।

এছাড়াও মাদক বিক্রেতা সোলেমান গাজী, হামিম প্রধানিয়ার দেয়া তথ্যে জানা গেছে, চাঁদপুর সদরের ষোলঘর এলাকার চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত এলাকার (ব্যাংক কলোনি) বাসিন্দা নয়নের কাছ থেকে তারা ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করেন। নয়ন তা দিতে না পারলে পুরানবাজারের মিলন নামে আরেক মাদককারবারির কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আশিকাটি ইউনিয়নে মুন্সির হাট-বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী সুমন, রালদিয়া এলাকার হামিম প্রধানিয়া, পূর্ব হোসেনপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাজু মালের ছেলে মাহবুব মাল, চাঁদখাঁর দোকান এলাকার হেলাল, ডিস ব্যবসায়ী পাভেল, চা দোকানি মো. সাইফুল, বাবুরহাট এলাকার মামুন মাল, অপু মাল, শাহ আলম ডাক্তার, পশ্চিম হোসেনপুর পগু মাল ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি এ মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

এদিকে এলাকায় মাদক নির্মূল করতে সামাজিক সচেতনতা, প্রতিবাদ ও মাদকসেবীদের স্বীকারোক্তি নিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় নানা দিক থেকে হুমকি পাচ্ছেন প্রবাসী নজরুল ইসলাম সুমন। এমনকি তার আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করছেন প্রভাবশালী ওই চক্র।

এ বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী গত ১৫ জুন চাঁদপুর মডেল থানায় মাদক বিক্রেতা রাজিব মৃধা, মাহবুব গাজী, পগু মাল ও ইউসুফ পাটওয়ারীর নামে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ডায়েরি নম্বর : ৭৩৬।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, গণঅভিযোগের ভিত্তিতে মডেল থানা পুলিশ গত এক সপ্তাহে তিনবার অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা বাড়ি থেকে পালিয়েছে। সর্বশেষ ২০ জুন প্রত্যেক মাদক বিক্রেতার বাড়ি গিয়ে তাদের অভিভাবকদের হুঁশিয়ারি করে দেয়া হয়েছে এবং থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। মাদক বিক্রেতার স্বীকারোক্তির ভিডিও:

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×